বিস্ফোরক! ১৭ বছরের আন্দোলনের পর এখন সংসদে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ, কে পাচ্ছেন কোটায় এমপির টিকিট? তদবির-দৌড়ঝাঁপে তোলপাড় বিএনপি অঙ্গনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে জোরদার লবিং শুরু হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিতে। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথের আন্দোলন আর টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির পক্ষে সরব ভূমিকা রাখা নেত্রীরা এবার সংসদে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য নারী প্রার্থীরা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন ও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তদবির শুরু করেছেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। মার্চের মাঝামাঝিতে বসতে পারে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি, যার মধ্যে বিএনপি এককভাবে আসন অনুপাতে পাবে ৩৫টি। জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি। বাকি ৩টি আসন ছোট দল ও স্বতন্ত্রদের মধ্যে বণ্টন হবে।

সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে বিএনপির অন্দরে। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রোজই গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রভাবশালী গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন তারা। যারা নির্বাচনে হেরেছেন, এমনকি যারা মনোনয়নই পাননি—তারাও কোটায় সংসদে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন অনেক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে অন্যতম—বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ, বিদুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, আইনজীবী ও টকশো আলোচক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি।

এছাড়া সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরীর মেয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নাতনি মহিলা দল সভানেত্রী ফাহসিনা হক লিরাও আলোচনায় রয়েছেন।

আলোচনায় আছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও কনকচাঁপা, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাও।

টকশো আলোচক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি সময়ের আলোকেকে বলেন, "গত ১৭ বছরে রাজপথের পাশাপাশি টকশোতেও সরব ছিলাম। কাজটি অত সহজ ছিল না। ভয়ের সংস্কৃতি ভেদ করে আমি কথা বলেছি। আশা করি বিএনপি নারীদের ত্যাগ ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করবে।"

এবারের নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছেন, তারাও আলোচনায় আছেন। শেরপুর-১ আসনের পরাজিত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, "আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি দল আমাকে সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করবে। কারণ শেরপুরে জামায়াতকে কাউন্টার দেওয়ার জন্য হলেও আমাকে সংসদের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।"

এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ও যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোছা. সাবিরা সুলতানাও আছেন আলোচনায়।

সাবেক সংরক্ষিত এমপিদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, সাবেক এমপি ও টকশো আলোচক আসিফা আশরাফী পাপিয়া ও নিলুফার চৌধুরী মনি।

বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী নেত্রীরাও সংরক্ষিত আসনে যেতে আগ্রহী। জামায়াতে দুই ডজনের বেশি নারী নেত্রী আলোচনায় এসেছেন। এনসিপির চার নেত্রী—মনিরা শারমিন, দিলাশানা পারুল, নাবিলা তাসনিদ ও ডা. মাহমুদা মিতু—এমপি পদ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন করার পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।

 

news