বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি খবরে তোলপাড় তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত থানার শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়ানো কিছু ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে নাকি বিসিবি সভাপতি নিজেই জড়িত ছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল তদন্ত শুরু করেছেন বলেও দাবি করা হয়। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বুলবুল। অপমানজনক এই গুজবে বিরক্ত ও হতাশ হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় জিডি করার তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে বিসিবি সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বোর্ড।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা দাবি ছড়ানো হচ্ছে—বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম নাকি বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন কমিটির প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের তদন্তের আওতায় রয়েছেন। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এসব দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অ্যালেক্স মার্শাল ব্যক্তিগতভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছেন যে এ ধরনের কোনো তদন্তের অস্তিত্ব নেই। মার্শাল বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি আমার দ্বারা তদন্তাধীন—এটি সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া অভিযোগ।’
বিবৃতিতে বিসিবি আরও জানায়, ‘এ ধরনের ভুয়া তথ্য প্রচার বোর্ডের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এটি বিসিবি সভাপতির সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পেজ ও এই গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর থানায় ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ ডায়েরি নম্বর ৩৮৬৭ দায়ের করা হয়েছে।
ভুয়া খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বোর্ড যেকোনো ধরনের মানহানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিসিবি, এর খেলোয়াড় কিংবা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারী ব্যক্তি বা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে যাচাই না করা তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করে কেবল আনুষ্ঠানিক সূত্রের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
