তাকে ছাড়া বিশ্বকাপ জয় কল্পনাতীত ছিল। ২০১১ সালে শরীরে ক্যানসার নিয়েই ভারতকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতান যুবরাজ সিং। পুরো টুর্নামেন্টের সেরাও হন তিনি। কিন্তু সেই যুবরাজই পেশাদার জীবনের শেষ দিকে এসে ক্রিকেট থেকে আনন্দ পাচ্ছিলেন না, বরং নিজেকে অসম্মানিত মনে করছিলেন। এই কষ্ট থেকেই তিনি ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। খেলা ছাড়ার সাত বছর পর সেই নির্মম সময়ের কথা আবার মনে করলেন তিনি।
২০১৯ সালের জুন মাসে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ভারতের এই অলরাউন্ডার। ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পেয়ে তিনি শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, আইপিএল থেকেও সরে দাঁড়ান। সানিয়া মির্জার পডকাস্টে যুবরাজ বলেন, "আমি ক্রিকেট থেকে তখন আর আনন্দ পাচ্ছিলাম না। বারবার ভাবতাম, যেটা উপভোগই করতে পারছি না, সেটা কেন খেলছি? আর কোনও সমর্থনও পাচ্ছিলাম না। নিজেকে অপমানিত মনে হচ্ছিল। যখন এগুলোই নেই, তখন খেলা চালিয়ে যাব কেন?"
কিন্তু কার কাছ থেকে তিনি সমর্থন পাননি বা কেন অসম্মানিত বোধ করছিলেন, সেই নাম স্পষ্ট করেননি যুবরাজ। তার কথায়, "যেটা উপভোগই করছি না, সেটা আঁকড়ে ধরে থাকার কোনো মানে খুঁজে পাইনি। বারবার নিজেকে জিজ্ঞেস করেছি, আমি কী প্রমাণ করতে খেলছি? ওই সময় মানসিক বা শারীরিকভাবে বাড়তি কিছু দিতে পারার অবস্থায় ছিলাম না। এটাই আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল। কিন্তু যেদিন খেলা ছাড়লাম, সেদিনই যেন নিজেকে ফিরে পেলাম।"
একসময় নভজ্যোৎ সিং সিধু যুবরাজের প্রতিভা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে যুবরাজ বলেন, "তার হয়তো আমাকে সঠিকভাবে বিচার করার সময় ছিল না। তিনি শুধু আমার বাবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতেন। তখন তিনি ভারত দলে খেলছেন, আর আমার বয়স মাত্র ১৩-১৪। আমি শুধু খেলাটা বোঝার চেষ্টা করছি। ওই মন্তব্য আমাকে তেমন আঘাত না দিলেও আমার বাবা সেটা ভালোভাবে নেননি। তিনি বলেছিলেন, 'কীভাবে ক্রিকেট খেলতে হয়, সেটা তো আমি তোমাকে শেখাচ্ছি।'" বললেন দুই বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
