বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল পাকিস্তান। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে যায় শাহীন আফ্রিদির দল। আর এই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। বল হাতে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে সবার। এমনকি প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়কও ম্যাচ শেষে তার প্রশংসা করতে ভোলেননি।
মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে সাধারণত স্পিনাররাই বেশি সুবিধা পান। কিন্তু সেই স্পিন সহায়ক উইকেটেই গতির ঝড় তুলেছেন নাহিদ রানা। তার গতি আর বাউন্স সামলাতে গিয়ে বেশ বিপদে পড়েন পাকিস্তানের ব্যাটাররা। মোহাম্মদ রিজওয়ান থেকে শুরু করে সালমান আলি আগা—অনেকেই নাহিদের বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
ম্যাচে মাত্র ২৪ রানের বিনিময়ে ৫টি উইকেট তুলে নেন এই তরুণ পেসার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম পাঁচ উইকেটের সাফল্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাহিদ।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি বলেন,
“আমার মনে হয় আমরা শুরুটা ভালোই করেছিলাম। কিন্তু এরপর নাহিদ এসে আমাদের ওপর চাপ তৈরি করে। আমার মনে হয় আমরা বল হাতে সত্যিই ভালো করেছি। প্রথম ম্যাচে যে ধরনের শুরু আমরা চেয়েছিলাম, তা পাইনি। এটি একটি তরুণ দল, আর আমি শেষ পর্যন্ত এই দলটির ওপর আস্থা রাখব।”
দলের হার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান অধিনায়ক। তিনি বলেন,
“আপনি যখন একটি ম্যাচ হারেন, তখন অনেক বিষয়ই সামনে আসে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই পার্টনারশিপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে, আর আমরা এখন পরের ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দেব।”
অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ম্যাচ শেষে নাহিদ রানার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,
“প্রথম ১০ ওভারে আমরা কোনো উইকেট পাইনি। কিন্তু রানা যেভাবে বল করেছে, তাতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেয়েছি। প্রথম কয়েক ওভারে তাসকিন ও ফিজ খুব ভালো বল করেছে। আমরা রানাকে বলেছিলাম সঠিক জায়গায় বল করতে, আর সে সেটাই করেছে। কন্ডিশন ও উইকেট বুঝে সে নিজের লেংথ ঠিক করেছে।”
সব মিলিয়ে এই ম্যাচে নাহিদ রানার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই ছিল বাংলাদেশের বড় শক্তি। তরুণ এই পেসারের আগুন ঝরা বোলিংই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেয় এবং সহজ জয়ের পথ তৈরি করে টাইগারদের জন্য।
