পৃথিবীর গভীর কেন্দ্র সূর্যের মতো উত্তপ্ত: নতুন গবেষনা

 জুলস ভার্নের ধ্রুপদি উপন্যাস “জার্নিজ টু দ্য সেন্টার অব দ্য আর্থ” এর দু:সাহসিক অভিযাত্রীরা আইসল্যান্ডের এক আগ্ন্যেয়গিরির সুড়ঙ্গ দিয়ে পাতালপুরিতে নেমে যান। তারা সেখানে আরেক বিশাল পৃথিবীর সন্ধান পান যেখানে প্রাগৈতিহাসিক জীবেরা বাস করে। নীচে নামতে নামতে তারা পৃথিবীর একাবারে কেন্দ্রে পৌঁছে যান। সেখানে তারা নতুন বিশ্বের নতুন জীব জগত দেখে বিস্ময়ে অভিভুত হয়ে পড়েন। কিন্তু পৃথিবীর অতি গভীরের আসল চিত্র কিন্তু এমন কাল্পনিক কাহিনীর মতো কিছু নয়। বরং তা নানা দিক থেকে তার চেয়েও অনেক বেশি নাটকীয় ও বিস্ময়কর।

গত মঙ্গলবার গবেষকরা বলেন, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের অতি গভীর অভ্যন্তরে ব্যাপক গবেষনা চালান তারা। শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময়কার ভূকম্পন তরঙ্গের ওপর ভিত্তি করে তারা এ গবেষনা পরিচালনা করেন। এতে আমাদের গ্রহের বিশেষ ধরণের কাঠামো বিদ্যমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পৃথিবীর প্রাণকেন্দ্রের গভীর অত্যন্ত উত্তপ্ত। সেখানে ৮০০ মাইল চওড়া কঠিন লৌহ ও নিকেল বল রয়েছে।

পৃথিবীর ব্যস প্রায় ৭,৯০০ মাইল(১২,৭৫০ কি.মি.)। পৃথিবীর আভ্যন্তরীন কাঠামোর চারটি স্তর রয়েছে। বাইরের দিকে আছে শিলাময় ভূত্বক। এরপর রয়েছে শিলাময় ম্যান্টল, বাইরের কেন্দ্রে রয়েছে ম্যাগমা ও কঠিন আভ্যন্তরীন কেন্দ্র। এ মেটালিক অভ্যন্তরীন কেন্দ্র ১৫০০ মাইল প্রশস্ত। ১৯৩০ এর দশকে এটি আবিস্কার করা হয়। পৃথিবীর ভেতর দিয়ে চলা সিস্মিক বা ভূকম্পনের তরঙ্গের ওপর ভিত্তি করে আবিস্কৃত হয় এ কেন্দ্র।

বিজ্ঞানীরা ২০০২ সালে পৃথিবীর অপেক্ষাকৃত অভ্যন্তরীন কেন্দ্র এর গভীরতম কেন্দ্রের অংশ যা বাকী অংশের থেকে আলাদা যা  রাশিয়ান মাট্রিয়োভস্কার নেস্টিংডল এর অনুরূপ। সিস্মিক তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ক্রমোন্নতিতে এ আবিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ভূমিকম্পগুলো যে সৃষ্ট সিস্মিক তরঙ্গ পৃথিবীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তরঙ্গের পরিবর্তনে আভ্যন্তরিন কাঠামোর স্বরূপ প্রকাশ পায়। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে চলা এসব তরঙ্গ সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ৬ মাত্রার চেয়ে বেশি ২০০ ভূমিকম্পের তরঙ্গ নিয়ে গবেষণায় জানা যায়, পৃথিবীর অভ্যন্তরের অবস্থা পিংপং বলের চেয়ে ৫ গুণ বেশি লাফালাফি করে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবজার্ভেশনাল সিস্মোলজিস্ট থানহ-সন ফাম বলেন, আমরা আমাদের পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের অবস্থার চেয়ে দূরবর্তী গ্রহ বা উপগ্রহের বিষয় বেশি জানি। জার্নাল ন্যাচার কমিনিকেশন্স এ তাদের গবেষনার বিষয় প্রকাশ পেয়েছে।

একজন গবেষক বলেন, কোনভাবে আমরা যদি পৃথিবীর বাইরের মেন্টাল ও তরল আস্তরগুলো সরিয়ে গভীর কেন্দ্রে যেতে পারি তাহলে দেখতে পাবো সেটি তারার মতো জ্বলজ্বল করছে। যার তাপমাত্রা হবে ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০ সেলসিয়াস ডিগ্রীরও বেশি। এটি সূর্যের পৃষ্টের তাপমাত্রার সমান।

ফাম বলেন, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে জন্মের পর বাইরের স্তরগুলো ক্রমবর্ধমান কঠিন অবস্থার কারণে পৃথিবী ক্রমান্বয়ে ঠান্ডা হয়ে আসে। কঠিন রূপ ধারণকারী পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরের সুপ্ত তাপ বাইরের তরলে পরিবাহিত হয়ে পৃথিবীর ভূচুম্বকীয় ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। আর এ চুম্বক ক্ষেত্র ছাড়া ক্ষতিকর রশ্মির থেকে পৃথিবীর সুরক্ষা প্রদান সম্ভব হতো না বলে মন্তব্য করেন ফাম।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads