জাতীয় নির্বাচনের আগে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে। ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভুয়া তথ্য ১৭% বেড়েছে। রাজনৈতিক গুজবের হার ৪৪%।

ডিসমিসল্যাব এপ্রিল-জুন মাসে ১,৩৬১টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছে। এতে ১,০১৩টি ভুয়া তথ্য চিহ্নিত হয়। এর বেশিরভাগই এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে।

এক ভিডিওতে দেখানো হয়, বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করবে। এটি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে মিথ্যা প্রচার। আরেকটিতে ট্রাম্প বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলা হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামেও ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। এগুলো নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে। গুগলের ‘ভিও থ্রি’ টুল ব্যবহার করে এসব ভিডিও তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভুয়া তথ্য ১৯% বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে এর হার ছিল মাত্র ১%। কাশ্মীর ও ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ নিয়ে ভুয়া ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।

কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের গুজব ছড়ানো হয়। ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ নিয়ে ভুয়া ভিডিওতে তেল আবিব ধ্বংসের দাবি করা হয়।

এক ভিডিওতে দেখানো হয়, ইসরায়েলি সৈনিকরা ইরানের কাছে যুদ্ধ বন্ধের আবেদন করছে। এসব ভুয়া কনটেন্ট মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। নাফসিন মেহনাজ ও অর্পিতা শ্যামা দেবের নামে এসব কনটেন্টের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সংবাদমাধ্যমের নামে ভুয়া গ্রাফিক্স তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৭৬টি এমন ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর ৮৫% রাজনৈতিক। এআই ব্যবহার করে এগুলো সংবাদমাধ্যমের মতো করে তৈরি করা হয়।

নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য আট গুণ বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে ৭টি ঘটনা থাকলেও, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ৫৫টিতে পৌঁছেছে। বিএনপি নেতারা এসব গুজবের প্রধান লক্ষ্য হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে ভুয়া তথ্য আরও বাড়বে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এআই ব্যবহার বাড়ছে। জনগণকে সচেতন থাকতে হবে এবং তথ্য যাচাইয়ে মনোযোগী হতে হবে।

এআই-এর অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া কনটেন্ট শনাক্তে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার ও প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।

সচেতনতা বাড়ালে ভুয়া তথ্যের প্রভাব কমানো সম্ভব। নির্বাচনের সময় তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং বিভ্রান্তি রোধ করবে।

news