ঢাকার সচিবালয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কী নিয়ে কথা হলো?
সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায় এবং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দুই দেশ কীভাবে কাজ করতে পারে—সে বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠকটি ছিল মূলত সৌজন্যমূলক, তবে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনাও উঠে আসে আলোচনায়।
শি ও লি’র শুভেচ্ছা বার্তা
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি স্পষ্ট করেন, বিনিয়োগ কিংবা তিস্তা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
চীন সফরের আমন্ত্রণ
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঠিক হয়নি। উপদেষ্টা জানান, বিদেশ সফরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত। বর্তমানে তাঁর একাধিক অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার রয়েছে। বিদেশ সফর শুরু হলে চীনের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা
বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময়। সেই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে সবসময়ই শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করা, সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করা এবং দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সচিবালয়ের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
