সেহরিতে জাগানো কি সওয়াবের কাজ, নাকি ব্যবসায়ীদের পকেট কাটার নতুন ফন্দি? যখন রাজধানীর ওয়ারীর ব্যবসায়ীরা সারাদিন রোজার রেখে ইফতারের পর ক্লান্তি শেষে একটু বিশ্রামে থাকেন, ঠিক তখনই হানা দিচ্ছে একদল তথাকথিত ‘কাফেলা’ বা 'জাগানিয়া' দল। রশিদ বই নিয়ে তারা এখন দোকানদার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর চালাচ্ছে প্রকাশ্য জুলুম।

রমজান মাস মানেই বরকতময় সময়, কিন্তু পুরান ঢাকার ওয়ারীতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোররাতে রোজাদারদের ঘুম ভাঙানো নামে একদল বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের উদ্দেশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের জাগানো নয়, বরং প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা। ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে তারা এখন দিনের পর দিন ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

ওয়ারীর অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, ঈদ ঘনিয়ে আসায় ইফতারে পর থেকেই শুরু হয় এই চাঁদাবাজির মহোৎসব। বড় বড় শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের ছোট চায়ের দোকান—কাউকেই বাদ দিচ্ছে না এই চক্র। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবসায়ী বা পাহারাদার টাকা না বের করে দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা বাগবিতণ্ডা চালিয়ে যায়। এটি এখন আর কোনো স্বেচ্ছাসেবী কাজ নয়, বরং পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক অপরাধ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই সিন্ডিকেটগুলো আগে থেকেই প্রতিটি দোকানের জন্য চাঁদার রেট চার্ট করে রাখে। তারা ডায়েরি বা রশিদ বই হাতে নিয়ে প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কড়া নাড়ে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক টাকা দিতে দেরি করেন বা অস্বীকৃতি জানান, তবে তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে তারা স্বেচ্ছায় কিছু দান করতেন। কিন্তু এখন এটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি এলাকাতেই একাধিক দল আলাদা আলাদা ভাবে চাঁদা দাবি করে, যা ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস তুলছে।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, সেহরি জাগানোর নামে কাউকে অতিষ্ঠ করা বা জোরপূর্বক টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ হারাম। অন্যদিকে, আইনের দৃষ্টিতে এটি স্পষ্ট চাঁদাবাজি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে  এই ধরনের বাণিজ্যিক চক্র দিনের পর দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ওয়ারীর প্রতিটি রোডে বা গলিতে এরা সিন্ডিকেট করে কাজ করে। এর ফলে এলাকার স্বাভাবিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিবেশও এখন নষ্ট হওয়ার পথে।

সেহরি জাগানোর নামে এই বাণিজ্যিক জুলুম আর কতকাল চলবে? সাধারণ ব্যবসায়ীরা কেন তাদের কষ্টের উপার্জনের টাকা এই চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দেবেন? আমরা চাই ওয়ারী এলাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো শান্তিতে ব্যবসা করুক এবং রমজানের পবিত্রতা বজায় থাকুক। আপনারা যারা এই ভিডিও দেখছেন, আপনাদের এলাকায় কি এমন কোনো ঘটনা ঘটছে? প্রশাসনের উচিত এখনই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

news