জাদুর অস্কার মারলিন জয়ী আলীরাজের গল্প

প্রত্নতাত্মিক ইতিহাস অনুযায়ী পৃথিবীতে ধর্মবিশ্বাসেরও আগে সৃষ্টি হয়েছে জাদু বিশ্বাস। এরমধ্যে অনেক কিছু বিলিন হলেও জাদু বা ম্যাজিক এখনো টিকে আছে। এই উপমহাদেশে সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমল থেকে পিসি সরকার এবং জুয়েল আইচ পর্যন্ত অনেক জাদুকরেরা মুগ্ধ করেছেন কোটি মানুষকে। বহু বিবর্তনের পথ বেয়ে সমৃদ্ধ সেই ইতিহাসে বাংলার গতানুগতিক জাদুকে ভিন্ন আঙ্গিকে আধুনিক রূপে পরিবেশন করেছেন দেশের ম্যাজিক আইকন আলীরাজ।

অভিজাত পরিবারে বেড়ে উঠা এই জাদুশিল্পী দেশের জাদুশিল্পকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছেন নিয়মিতই। তিনি জাদুশিল্পী হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তুরস্ক, লন্ডন, আমেরিকা, চীন, জাপান, ফিলিপিনে, ইন্দনেশিয়া, হংকং, ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের বহু দেশে। 

১৯৯৫ সালে দেশে তিনিই প্রথম গ্ল্যামারে আলোকিত শোবিজ ও কৌশলের মুন্সিয়ানায় সমৃদ্ধ জাদুকে এক করেন। বিভিন্ন ফ্যাশান শো ও মডার্ন ডান্সের সমন্বয়ে জাদুশিল্পকে উপস্থান করেন তিনি। টেলিভিশন, বিভিন্ন দূতাবাস, বহুজাতিক কোম্পানি, পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাদুর মুন্সিয়ানা দেখিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই আঙ্গিনার উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে।

আলীরাজ বলেন, ‘অনেকেই মনে করে জাদু মানেই অলৌকিক কর্মকান্ড। মোটেও তা নয়। এটি কৌশলের দক্ষ প্রয়োগের খেলা। দিনদিন পৃথিবীতে জাদুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।’

দেশের ইভেন্ট সংস্কৃতিতে বহু নতুন সংযোজন ঘটিয়েছেন এই সৃজনশীল শিল্পী। দেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ, বাটেক্সপো, শাহরুখ খান বিগ শো, সালমান খান শো, এ আর রহমান কনসার্ট, ইন্দো বাংলা গেমস, এশিয়া কাপ এবং বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে দেশের জাদুশিল্পকে তুলে ধরেন তিনি। দেশের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয় অনেক পণ্য জাদুর মাধ্যমে আবির্ভাব ঘিটিয়েছেন আলীরাজ যা অনেকেরই অজানা। শুধু তাই নয়, আলীরাজ দেশে প্রথম এবং একমাত্র ৩৫০ আসনবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের ব্যয়বহুল মঞ্চসহ জাদুর প্রেক্ষাগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি অবস্থিত উত্তরার দিয়াবাড়িতে ফ্যান্টাসি আইল্যান্ড পার্কে। ২০০৩ সালে তিনি ম্যাজিশিয়ান সোসাইটি অব বাংলাদেশ নামে জাদুর সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যার বর্তমান সভাপতি বরেণ্য জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ।

২০০৫ সালে দেশ বিদেশের বিভিন্ন চটকদার অনুষ্ঠানের ভিড়ে দেশের স্থানীয় জাদুশিল্প যখন মুখ থুবড়ে পড়েছিল তখন একক প্রচেষ্টায় শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বের ৭টি দেশের সেরা তারকা জাদুকরদের নিয়ে ৩ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক জাদু উৎসব ও জাদু নিয়ে কর্মশালা। এই উদ্যোগ যা দেশের অবহেলিত জাদুশিল্পীদের মাঝে আলোর সঞ্চয় করে।

২০০৫ সালে পৃথিবীর বিখ্যাত জাদুকর আমারিকার ফ্রাঞ্জ হারারির কাছ থেক পান গোল্ডেন উইজার্ড এওয়ার্ড এবং ম্যাজিক আইকন অব বাংলাদেশ খেতাব অর্জন করেন। ২০০৭ সালে একই চ্যানেলে তার সম্মিলিত প্রদর্শনী হয়। সেটি চীনের সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শক দ্বারা ভোটে নির্বাচিত হয় এবং চীনা মুদ্রায় অর্জিত ৯ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা লুইয়াংয়ের বিরল রোগাক্রান্ত শিশুদের জন্য প্রদান করা হয়। 

২০০৯ সালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এফআইএসএম অলিম্পিক অব ম্যাজিকের জন্য বাংলাদেশ থেকে একমাত্র গ্রুপ অর্গানাইজার হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে এশিয়ার বৃহৎ জাদু সংগঠন এশিয়ান ম্যাজিক এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

২০১১ সালে আমেরিকার জাদু সংগঠন ইন্টারন্যাশনার ম্যাজিশিয়ানস সোসাইটি থেকে জাদুর অস্কারখ্যাত মারলিন অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১২ সালে পৃথিবীর বৃহৎ ইউরোপীয় সংগঠন এআইএসএম’র সাথে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করে বাংলাদেশ শাখার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news