দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের জন্য এখন সময়টা যেন মোটেই ভালো যাচ্ছে না। একের পর এক সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছেন সিনেমা ও রাজনীতির এই তারকা। এবার কর ফাঁকির এক মামলায় তার উপর আরোপিত ১ কোটি ৫০ লাখ রুপির জরিমানা বহাল রেখেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি সেন্থিলকুমার রামমূর্তির বেঞ্চ বিজয়ের করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দেন। এই মামলার মূল বিষয় ছিল, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় গোপন করার অভিযোগে আয়কর বিভাগ তার উপর যে জরিমানা করেছিল, সেটা নিয়ে আপত্তি।

আদালত তার রায়ে স্পষ্ট করে বলেন, আয়কর বিভাগের এই জরিমানা সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে আরোপ করা হয়েছে। আদালতের সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিজয়ের বাড়িতে আয়কর বিভাগের হানা দেওয়ার পর তদন্তে বেরিয়ে আসে একটি বড় তথ্য। সেই বছরে তিনি তাঁর আয়কর রিটার্নে মোট আয় দেখিয়েছিলেন ৩৫ কোটি ৪২ লাখ রুপি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, তাঁর ছবি 'পুলি' থেকে পাওয়া প্রায় ১৫ কোটি রুপির আয় তিনি সেই রিটার্নে উল্লেখ করেননি। আয়কর বিভাগ এই টাকাকে 'গোপন আয়' হিসেবেই চিহ্নিত করে।

এই ঘটনার পর ২০১৮ সালে আয়কর বিভাগ সেই আয়ের উপর ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জরিমানা হিসাবে ধার্য করে। এই জরিমানার বিরুদ্ধে ২০২২ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন বিজয়। তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, জরিমানা করার নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই এটি অবৈধ। কিন্তু হাইকোর্ট সেই যুক্তি মানতে রাজি হননি।

বিচারপতি রামমূর্তি বলেন, আয়কর আইনের ২৬৩ ধারা অনুসারে যথাসময়েই বিজয়কে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিই আইন মেনে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখন আয়কর বিভাগের পক্ষে ওই জরিমানার টাকা আদায়ে কোনো বাধা নেই।

তবে, বিজয়ের জন্য এখনও শেষ আশাটা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। আদালত জানিয়েছে, তিনি চাইলে ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে (আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল) এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।

এদিকে, শুধু আইনি সমস্যাই নয়, চলচ্চিত্র জগতেও বিজয়ের নতুন ছবি 'জননায়গণ' নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সেন্সর ছাড়পত্র এবং আরও কিছু আইনি জটিলতার কারণে এই ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের দু'দিক দিয়েই এই মুহূর্তে চাপের মুখে রয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

 

news