ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যার মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি শিশু। এই ভয়াবহ হামলার ফলে একটি গোটা প্রজন্মের স্বপ্ন আর উচ্চাশা চুরমার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এত দিনে যত মানুষ নিহত হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই শিশু, যাদের ভবিষ্যৎ ছিল। তাদের ছিল বড় স্বপ্ন, বড় কিছু করার আশায় তারা জীবন কাটাচ্ছিল—কিন্তু ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে সেই স্বপ্ন যেন এক মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলার শিকার মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ অনেক মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, আবার বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে অনেক শিশুর জীবন ঝরে গেছে, যা একটি সমাজের জন্য এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের ক্ষতি এমনকি বর্তমান প্রজন্মও সহজে কাটিয়ে উঠতে পারবে না।

ইসরায়েলের সমাজে এই গণহত্যার ব্যাপারে কোনো ধরনের অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গ মন্তব্য করেছেন, ৫০ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পরেও ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে কোনো দুঃখ বা অনুশোচনা নেই। তিনি জানান, ইসরায়েলিরা যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজার হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সন্দিহান, এবং তাদের মতে গাজার সব হতাহতই হামাসের সদস্য।

এদিকে, গাজার এই মানবিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, কার্যকর পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় চলমান এই গণহত্যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

news