ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন বিদেশি কোনো দেশের নির্বাচন নিয়ে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা বা গণতন্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করেন। এই নীতিগত নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘গণতন্ত্র প্রসারের’ অবস্থান থেকে একটি বড় ধাপ সরে আসার ইঙ্গিত বহন করে।

১৭ জুলাই তারিখে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে সব মার্কিন দূতাবাসে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলা হয়, কোনো দেশের নির্বাচনের সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট কূটনৈতিক স্বার্থ না থাকে, তবে সে বিষয়ে মন্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট দেওয়া যাবে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে কেবল বিজয়ী প্রার্থীকে সংক্ষিপ্ত অভিনন্দন জানানো যাবে। কোনো নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো ধরনের বিশ্লেষণ, মতামত বা বার্তা প্রকাশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

নির্দেশনায় বলা হয়, এই ধরনের বক্তব্য কেবলমাত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা দপ্তরের মুখপাত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে এবং সেটাও কেন্দ্র থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে।

এই নির্দেশনার পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৩ মে রিয়াদে দেওয়া ভাষণের প্রতিফলন রয়েছে, যেখানে তিনি পশ্চিমাদের বিদেশি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আর কাউকে শেখাবে না, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়তে চায়।”

স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, “এই নির্দেশনা জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখেই এগোবে।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চেহারায় নাটকীয় এক রূপান্তর এবং মানবাধিকার বা গণতন্ত্র প্রশ্নে মার্কিন নীতি এখন অনেক বেশি কৌশলগত স্বার্থনির্ভর।

Walton Ads