যারা ইউরোপে পা রাখতে চান, কিন্তু স্থায়ীভাবে বসবাস বা জটিল কাগজপত্রে জড়াতে চান না, তাদের জন্য ইতালির ‘গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রাম’ হতে পারে এক নতুন সম্ভাবনা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় উচ্চবিত্তদের কাছে এটি এখন দারুণ জনপ্রিয়।
এই ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—আপনাকে ইতালিতে থেকে জীবনযাপন করতে হবে না। তবুও আপনি ইউরোপের শেঙ্গেন অঞ্চলে অবাধে যাতায়াত করতে পারবেন। ভিসাটি মূলত একটি বিনিয়োগ-ভিত্তিক সুযোগ।
এতে অংশ নিতে চাইলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ইতালির সরকারি বন্ডে €২০ লাখ, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে €৫ লাখ, বা স্টার্টআপে মাত্র €২.৫ লাখ বিনিয়োগেই এই ভিসা পাওয়া সম্ভব।
এছাড়া, সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে অনুদান দিতে চাইলে €১০ লাখ বিনিয়োগ করলেই ভিসার সুযোগ মেলে। আর যদি আপনি অবসরপ্রাপ্ত হন বা বিদেশ থেকে নিয়মিত আয় থাকে, তাহলে রয়েছে ‘Elective Residence Program’ নামের আরেকটি সহজ বিকল্প।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত খুব দ্রুত হয়। কখনও কখনও ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে তার আগে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে কর্তৃপক্ষ।
ভিসা প্রথমে ২ বছরের জন্য মেলে, যা পরে আরও ৩ বছরের জন্য নবায়ন করা যায়। একবার ভিসা পেলে ৩ মাসের মধ্যে নির্ধারিত বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে এবং ইতালিতে একটি বাসস্থান (ভাড়া বা ক্রয়) রাখতে হবে।
৫ বছর পর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ আছে এবং ১০ বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এর ফলে ইউরোপের নাগরিকত্ব পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
অনেক ভারতীয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইতালিকে বেছে নিচ্ছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে থাকুন বা না থাকুন, বৈশ্বিক আয়ের ওপর কর দিতে হয়। কিন্তু ইতালিতে এমন বাধ্যবাধকতা নেই, আপনি চাইলে তবেই ট্যাক্স রেসিডেন্ট হবেন।
আরও বড় সুবিধা হলো—আপনার পরিবারকেও একই ভিসায় যুক্ত করা যাবে, কোনও অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই। ফলে আপনি দূর থেকেও ইউরোপের সব সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
বিশ্ব নাগরিক হতে চাইলে এবং ইউরোপে সহজে প্রবেশের পথ খুঁজলে, ইতালির গোল্ডেন ভিসা এখন একটি স্মার্ট ও কার্যকরী বিকল্প হয়ে উঠেছে।
