দিল্লির পাশের এলাকা গুরুগ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গের বহু মুসলিম শ্রমিক ভয় ও আতঙ্কে নিজ রাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই সম্প্রতি স্থানীয় পুলিশের হাতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক হয়েছিলেন।

আটকের পর পরিচয় যাচাই করে ছেড়ে দেওয়া হলেও কেউ কাগজপত্র পাননি। এতে নতুন করে আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা বাইরে বের হওয়াও বন্ধ রেখেছেন।

অনেকেই ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাস ভাড়া করে ফিরছেন। জনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কেউ আবার কাজ ছেড়ে চলে গেলে বাড়িতে থাকা সন্তান ও মা-বাবাকে কীভাবে খাওয়াবেন—সেই চিন্তায় ভুগছেন।

মালদার চাঁচোলের বাসিন্দা আনিসুর রহমান গুরুগ্রামে ছিলেন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে। তিনি জানান, সাত দিন আটক থাকার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকায় তিনি এখনো ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।

আনিসুর বলেন, তার আধার কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়পত্র দেখালেও সেগুলো মানেনি পুলিশ। পরে চাঁচোল থানা থেকে পরিচয় নিশ্চিত করে চিঠি পাঠানোর পর তাকে ছাড়া হয়।

রাজমিস্ত্রি মুকুল হোসেন মাত্র এক বছর আগে গুরুগ্রামে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনিও আটক হয়েছিলেন এবং পরে পরিচয় যাচাই করে ছাড়া পান। তবে ভয়ে স্থায়ীভাবে ফিরে যাচ্ছেন মালদায়।

নূর আলম নামে এক ডেলিভারি কর্মী জানান, ছয় দিন আটক থাকার পর তাকে ছাড়া হয়েছে। কিন্তু গ্রামে ফিরে গেলে আয় না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।

প্রতিদিন গুরুগ্রাম থেকে দুই-তিনটি বাস পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। অনেক ভাড়াবাস খালি হয়ে গেছে, অনেকে ঘর তালা দিয়ে চলে গেছেন।

শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, যাঁরা ফিরে যাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই মুসলিম। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখনও অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতির উন্নতির জন্য।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এই আতঙ্কের মধ্যে কেউ কেউ আবার নিজেদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা করেছে, ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকার আয়ের পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যাতে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

 

news