ইরান-ইজরায়েল সংঘাত থামানোর উদ্যোগের পর এবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় হয়েছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, খুব শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন। সূত্রের খবর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানে আগ্রহ দেখিয়ে এর আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট থাকলে এই যুদ্ধ হত না।” এবার সেই কথাকে বাস্তবায়িত করতে তিনি সরাসরি আলোচনায় নামছেন।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “খুব তাড়াতাড়ি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে, সেই সম্ভাবনা জোরালো।” দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর এই প্রথমবার হতে যাচ্ছে ট্রাম্প-পুতিন সাক্ষাৎ।

বিশ্বরাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক হতে পারে একটি বড় কূটনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সূত্র জানাচ্ছে, এর আগেই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মস্কোয় গিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেই বৈঠকে যুদ্ধ থামানো নিয়ে আলোচনা হয় এবং ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এরপরই হতে পারে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক—যেখানে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন জেলেনস্কিও। তবে ট্রাম্প একথাও স্পষ্ট করেছেন, যদি রাশিয়া শান্তি স্থাপনে ইতিবাচক ভূমিকা না নেয়, তাহলে আমেরিকা মস্কোর উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, “ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন প্রতি মাসেই তিনি অন্তত একটি যুদ্ধ থামিয়েছেন।” তাঁর তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, ইরান-ইজরায়েল, রোয়ান্ডা-কঙ্গো, সার্বিয়া-কসোভো, মিশর-ইথিওপিয়া এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘাত। সেই কারণেই ট্রাম্পের এখন দাবি, তাঁকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণা শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে নয়, ট্রাম্পের ঘরোয়া নির্বাচনী রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই কৌশল তাঁকে 'শান্তিদূত' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে পুতিন ও জেলেনস্কির অবস্থানের উপর। আপাতত বিশ্ব নজর রাখছে—ট্রাম্প সত্যিই যুদ্ধ থামাতে পারেন কিনা।

news