ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— হামাসের সঙ্গে আংশিক যুদ্ধবিরতি বা জিম্মি বিনিময়ের সম্ভাবনা এখন অতীত। তার মতে, এখন লক্ষ্য একটাই— যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা এবং সব জিম্মিকে মুক্ত করা, তবে সব হবে ইসরাইলের শর্তে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ইসরাইলি টিভি চ্যানেল আই২৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আংশিক চুক্তির সময় শেষ। আমি আর কোনো আংশিক চুক্তিতে ফিরব না।” বিরোধী দল ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের অভিযোগ— সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে— তিনি সরাসরি উড়িয়ে দেন। বরং তার দাবি, হামাস ইসরাইলকে “ভুল পথে চালিত” করেছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগের দিন (১১ আগস্ট) তিনি ঘোষণা দেন, গাজা সিটির বাইরের অবশিষ্ট এলাকাতেও অভিযান চলবে। এইসব এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ গাজাবাসী, যারা এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে আলাদা এক ঘটনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ড্রোন হামলায় তারা পাঁচজন ‘সশস্ত্র যোদ্ধাকে’ হত্যা করেছে। সেনাদের দাবি, নিহতরা ত্রাণকর্মীর পোশাক পরে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (WCK)-এর লোগোযুক্ত গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

প্রকাশিত ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন হলুদ ভেস্ট পরে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে কোনো ইসরাইলি সেনা দেখা যায়নি এবং কাউকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায়নি। তবে সেনাদের দাবি— ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণকর্মীর ছদ্মবেশ নিয়েছিল, যাতে লক্ষ্যবস্তু হওয়া এড়ানো যায়।

গাজার জেলা সমন্বয় কার্যালয় জানিয়েছে, WCK নিশ্চিত করেছে— ওই গাড়ির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আন্তর্জাতিক এ সংস্থা কিংবা হামাস— কেউই এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই WCK গাজায় খাবার ও রুটি সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু অবরোধের কারণে তাদের কার্যক্রম এখন মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

 

news