বিশ্ব যখন ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ আর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিশৃঙ্খলার মধ্যে জর্জরিত, তখন এক চমকপ্রদ কূটনৈতিক মুহূর্তে মুখোমুখি হলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার চীনের তিয়ানজিন শহরে শি-মোদির বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় বলেই মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিং সরাসরি বললেন—“আজকের বিশ্ব এক শতাব্দীতে একবার ঘটে যাওয়া বড় পরিবর্তনের মধ্যে আছে। পরিস্থিতি একইসাথে অস্থির আর বিশৃঙ্খল।” তিনি আরও যোগ করেন, চীন-ভারতের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সহযোগী হওয়া। তাঁর রূপক ভাষায়, “ড্রাগন আর হাতি যদি একসাথে নাচে, তাহলে স্থিতিশীলতা আসবেই।”

মোদিও একই সুরে বার্তা দিলেন। তিনি জানালেন, ভারত সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় “পারস্পরিক বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।” সঙ্গে উল্লেখ করলেন, সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের ইতিবাচক দিকগুলো। তাঁর ভাষায়, “আমাদের দুই দেশের ২.৮ বিলিয়ন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সহযোগিতার ওপর।”

এই বৈঠকটিকে শুধু এশিয়া নয়, ওয়াশিংটনও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাশে টানতে চাইছে। কিন্তু ট্রাম্প যখন ভারতীয় তেল আমদানির ওপর ২৫% শুল্ক বসালেন, বিশেষত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনায় অতিরিক্ত শাস্তি আরোপ করলেন, তখন ভারতের ওপর চাপ অনেকটাই বেড়েছে। অন্যদিকে চীন এখনো এ ধরণের সরাসরি নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়নি।

শি-মোদির বৈঠকে উঠে এসেছে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও। মোদি জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্যদিকে জেলেনস্কি শীর্ষ সম্মেলন থেকে বিশ্ববাসীর বার্তা তুলে ধরেছেন—“যুদ্ধ থামতেই হবে।”

এসসিও সম্মেলন ঘিরে এই বৈঠক শুধু ভারত-চীন নয়, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরানসহ আরও ২০টির বেশি দেশের নজর কেড়েছে। বৈঠকের আগে শি ভোজের আয়োজন করেন, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সম্পর্ক সবার সামনে ফুটে ওঠে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—সীমান্তে ২০২০ সালের ভয়াবহ সংঘর্ষ, যেখানে ২০ জন ভারতীয় ও ৪ জন চীনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল, সেই তিক্ত স্মৃতি কি এত সহজে মুছে যাবে? দুই দেশই এখনো হিমালয়ের দীর্ঘ সীমান্তে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।

তবুও বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পার্থক্যকে বিরোধে পরিণত করা যাবে না।” দুই দেশই নিশ্চিত করেছে, উন্নয়ন আর বহুমেরু বিশ্বের জন্য স্থিতিশীল সহযোগিতা জরুরি।

অতএব, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ট্রাম্পের শুল্কে যখন বিশ্ব উত্তপ্ত, তখন কি শি আর মোদি সত্যিই একসাথে নতুন এক শান্তি-বন্ধুত্বের অধ্যায় লিখতে পারবেন? নাকি পুরনো অবিশ্বাস আবারও সামনে আসবে?

 

news