চীনে শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেখানে বিশেষ চমক—চীনের তৈরি শি’র প্রিয় গাড়ি ‘হংকি এল৫’-তে সফর করবেন তিনি। চীনা ভাষায় ‘হংকি’ মানে লাল পতাকা, যা প্রেসিডেন্ট শি প্রায় সব সরকারি সফরে ব্যবহার করেন।

২০১৯ সালে মহাবালিপুরমে মোদির সঙ্গে বৈঠকেও শি একই গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন। আবারও সেই একই গাড়িতে মোদির সফর দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া তিক্ততা কাটিয়ে এ সফরকে অনেকেই ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

চীনে পৌঁছানোর পর শি নিজেই মোদিকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। দুই পরাশক্তির সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ‘হংকি’ গাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে চীনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস।

চীনের রাষ্ট্রীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট অটোমোটিভ ওয়ার্কস (FAW) ১৯৫৮ সালে প্রথম হংকি লঞ্চ করে। শুরুতে গাড়িটি ছিল কেবল কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের জন্য। মাও সেতুংয়ের সময় থেকেই এটি ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। বর্তমানে শি জিনপিং একে নিজের সবচেয়ে পছন্দের অফিসিয়াল গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন।

শুধু মোদি নন, এই সম্মেলনে যোগ দিতে চীনে উড়ে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। তাঁর জন্য বিশেষভাবে আনা হয়েছে বিলাসবহুল ‘Aurus’ কার। রাশিয়ার অটোমোবাইল সংস্থা Aurus Motors তৈরি করেছে এই প্রেসিডেন্সিয়াল গাড়ি, যেখানে রেট্রো-স্টাইলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ও লাক্সারি ফিচার।

সব মিলিয়ে মোদি-শি বৈঠক শুধু রাজনৈতিক কূটনীতিই নয়, প্রতীকী কূটনীতির দিক থেকেও নতুন বার্তা দিল—গালওয়ানের পর হাতি আর ড্রাগন আবারও পাশাপাশি হাঁটার চেষ্টা করছে।

 

news