যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় রদবদল করতে যাচ্ছেন। তিনি একটি নতুন 'বোর্ড অফ পিস' বা 'শান্তি বোর্ড' তৈরি করেছেন, যার লক্ষ্য গাজার যুদ্ধ বন্ধ এবং এলাকার পুনর্গঠন করা। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হলো, ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছেন, এই বোর্ড ভবিষ্যতে জাতিসংঘের জায়গা নিতে পারে এবং তিনি নিজেই এর চেয়ারম্যান পদে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবেন।
বোর্ডটির প্রধান উদ্দেশ্য হল গাজা সংকটের সমাধান। তবে এর পরিধি আরও বড়। ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় ৮০ বছর আগে গঠিত জাতিসংঘ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় পুরোপুরি সক্ষম না হওয়ায় এই বিকল্প কাঠামো দরকার। এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে হলে যে কোনো দেশকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার জমা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন তাদের অংশগ্রহণের আগ্রহ জানিয়েছে।
বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে ট্রাম্প নিজেই থাকবেন। আরো মজার ব্যাপার হলো, তিনি এই পদে অনির্দিষ্টকালের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এমনকি তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি চেয়ারম্যান হিসেবেই থেকে যেতে পারবেন।
ট্রাম্প বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর নেতাদের বোর্ডে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এই তালিকায় আছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বেশ চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ পুতিন ২০২২ সাল থেকেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি নতুন ধরনের শক্তি সমীকরণ তৈরি করতে পারে, যা জাতিসংঘের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। যদিও জাতিসংঘ এখনও বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক ফোরাম, কিন্তু ট্রাম্পের এই 'শান্তি বোর্ড' যদি বাস্তব শক্তি ও অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে জাতিসংঘের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
এখন দেখার বিষয় হলো, আরো কোন কোন দেশ এই বোর্ডে যোগ দেয় এবং এটি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় অধ্যায়ের সূচনা করছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
