সাবহেডিং: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত স্যার মার্ক টালি নয়াদিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, যুদ্ধকালীন বাস্তবতা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন যিনি

বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বস্ত সাক্ষী স্যার মার্ক টালি আর নেই। রবিবার নয়াদিল্লিতে ৯০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিবিসি হিন্দি এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা মার্ক টালি ১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন। মাত্র এক বছর পর, ১৯৬৫ সালেই ভারতের দিল্লিতে রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব পান। তার পরবর্তী দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সরবরাহ করেছেন অগণিত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের খবর সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। সে বছরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পা রাখেন। ওই সময় পাকিস্তানি সরকার মাত্র দুইজন বিদেশি সাংবাদিককে সফরের বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল। মার্ক টালির সঙ্গে ছিলেন ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধ সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।

মার্ক টালি এক সাক্ষাৎকারে সে সময়ের ঘটনা স্মরণ করে বলেছিলেন, "পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ভেবেছিল তারা সীমান্ত এলাকা দখলে নিয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে, তখনই তারা আমাদের আসার অনুমতি দিয়েছিল। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে আমরা দেখেছিলাম জ্বলছে গ্রামের পর গ্রাম। কিন্তু আমাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও দেখার সুযোগ ছিল, তাই আমাদের রিপোর্টগুলো তখন খুবই গুরুত্ব পেয়েছিল।"

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার বিশেষ ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে তাকে 'মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা' প্রদান করে।

বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে গেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক অনন্য কণ্ঠস্বর।

 

news