ইরানে চলমান বিক্ষোভের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন নতুন সামরিক চাপের পথে হাঁটছে, ঠিক তখনই বিশ্লেষকরা এক বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা বলছেন, চীনের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্যে ইরান যে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তুলছে, তা ওয়াশিংটনের জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি এবং মার্কিন সামরিক শক্তির জন্য বাড়তি খরচ ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সরাসরি সাহায্য আসেনি। বরং, বিক্ষোভ দমনের পরপরই আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করেছে যে, ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ মানুষের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং কৌশলগত প্রভাব ও নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এখন আরব সাগরের দিকে এগোচ্ছে। আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ভূমধ্যসাগরে ঢুকে পড়েছে এবং তৃতীয় আরেকটি আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করেছে। এছাড়া, মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান জর্ডানে মোতায়েন করা হয়েছে। কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে প্যাট্রিয়ট ও থ্যাড মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, "ট্রাম্প আসলে ভয় পাচ্ছেন। তার মনে হচ্ছে কিছু না করলে তাকে দুর্বল ভাবা হবে। এই মোতায়েন আসলে মানুষের সুরক্ষার জন্য নয়, শুধু তার নিজের ভাবমূর্তি বাঁচানোর জন্য।"

গত বছর ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর, চীনের সাহায্যে ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামটিকে আবারও পুনর্গঠন করেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, চীনের সরবরাহের কারণে তেহরান এখন কয়েকশো মিডিয়াম-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সামর্থ্য রাখে।

নিউ ইয়র্কের ইউরেশিয়া গ্রুপের গ্রেগরি ব্রু বলেছেন, "আমেরিকা যেন বলপ্রয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর ইরান যেন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কে প্রথম আঘাত করবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।"

হাডসন ইনস্টিটিউটের ক্যান কাসাপোগলু যোগ করেন, "মনে করুন, ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে যদি ৮০টিও প্রতিরোধ করা যায়, তারপরও বাকি ২০টি লক্ষ্যে আঘাত হানবে। ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই সম্ভাবনা আরও বেশি।"

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে শুরু করে হাইড্রোকার্বন অবকাঠামো পর্যন্ত, তেহরান এখন অল্প আঘাতেও শত্রুপক্ষকে বড় রকমের ক্ষতি করতে সক্ষম।

ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, "আমাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ট্রাম্প যদি অকারণে আক্রমণ করেন, আমরা তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।"

 

news