যুক্তরাষ্ট্র এবার ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ক হ্রাস করল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পরই এই ঘোষণা দেন। এরপরই ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মোদি।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হচ্ছে। তবে, বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মাঝে এখনও এই হিসাব নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। গত বছর ২৭ আগস্ট, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ‘অজুহাতে’ ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন। সেটি বাদ দিলে মূল শুল্ক ছিল ২৫ শতাংশ। ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছিল ৫০ শতাংশ।
এবারের ঘোষণায় মূল শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হলেও, সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা হয়নি। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, কার্যকর শুল্ক এখন ৫০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
এই ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (পূর্বের টুইটার) ও ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, "আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। ভারতে উৎপাদিত পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্তের জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
মোদি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি ও গণতন্ত্র যখন একসাথে কাজ করে, তখন এর সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বকে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর আগস্টের শুরুতে ট্রাম্প ভারতের উপর প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরবর্তীতে তা বাড়ানো হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। সেই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘অনুচিত, উসকানিমূলক ও অযৌক্তিক’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছিল। তবে এই নতুন সমঝোতার ফলে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্ব ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
