যুক্তরাষ্ট্রের দিকে থেকে একের পর এক যুদ্ধের হুমকি আর সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর মধ্যেও এবার স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিল ইরান। ওয়াশিংটনকে তেহরানের প্রতি 'সম্মান' দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ "শক্তির ভাষা বোঝে না"। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের আছে।
এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, "পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের অবস্থান এনপিটিতে বর্ণিত আমাদের ন্যায্য অধিকারভিত্তিক। ইরানি জনগণ সম্মানের জবাবে সম্মান জানায়, কিন্তু কাউকে ভয় দেখানোর ভাষা আমরা গ্রহণ করি না।" ওমানে সম্প্রতি হওয়া পরোক্ষ আলোচনাকে তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, তাঁর সরকার শান্তিপূর্ণ সংলাপকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কিন্তু অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং গত জানুয়ারিতে দেশটিতে বিক্ষোভ দমনের বিষয় তুলে তেহরানের উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের সামরিক বহর জোরদার করছে, কিন্তু দাবি করেছেন যে এই তৎপরতা ইরানকে ভীত করতে পারবে না।
জানুয়ারির শেষ দিকে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে আরব সাগরে প্রেরণ করে। গত সপ্তাহে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, অন্তত এক ডজন এফ-১৫ ইগল যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং কয়েকটি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট ভূমি-আক্রমণ বিমান জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে। এছাড়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোনও উপসাগরের আকাশে সক্রিয় রয়েছে। এর আগে ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পোসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের মতো উন্নত সামরিক যানের মোতায়েনের খবরও আসে।
এই বিপুল সামরিক সমাবেশের মধ্যেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, আলোচনায় বসলেও ইরান কখনোই তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ছাড়বে না এবং যুদ্ধের হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন করায় হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ রোববার সংস্কারপন্থী তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে, যাঁদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ শুরুর আগেই গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মদিকে 'জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন' করার অভিযোগে নতুন করে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
