মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবে নিজেদের দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকার দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মকর্তা-কর্মী এবং সব কর্মকর্তা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ গতকাল জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সেই কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের প্রতিও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যারা সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যেসব মার্কিন নাগরিক সৌদিতে ভ্রমণ করতে চান, তাদের ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি, মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়া, সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”
এর আগে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে।
এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন দূতাবাস এবং তেলের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
