ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাকে ঘিরে বড় ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং ইরানের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর, ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলমান অবস্থায় এই ঘোষণা সামনে এলো।
যাদের তথ্য চায় যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ইরানি নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে তথ্য দিলে পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তালিকায় আছেন—
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি
সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি
উপদেষ্টা আলি লারিজানি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসকান্দার মোমেনি
গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব
এছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)–এর চারজন নামহীন কর্মকর্তার সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এই চার পদ হলো—
প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব
সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা
সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের সামরিক প্রধান
আইআরজিসি কমান্ডার
কেন এই পুরস্কার
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইআরজিসি ইরানের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বর্তমানে এই বাহিনী ইরানের অর্থনীতির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্যদাতাকে দেওয়া হতে পারে বিশেষ সুবিধা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ প্রকাশ করা আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যারা এসব নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেবেন তাদের শুধু অর্থ পুরস্কারই নয়, প্রয়োজনে স্থানান্তরের যোগ্যতাও দেওয়া হতে পারে।
অর্থাৎ নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যদাতাকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করতেও সহায়তা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পুরস্কারের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
