লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, দুই পক্ষই এই সাময়িক শান্তিতে রাজি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে হিজবুল্লাহ পাঁচটি রকেট ছোড়ে। এর মধ্যে চারটি প্রতিহত করা হয় এবং একটি খোলা জায়গায় গিয়ে পড়ে।

তবে এর আগে চালানো আরেকটি রকেট সরাসরি আঘাত হানে ইসরায়েলে। এতে চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই ইসরায়েলও তাদের হামলা বাড়িয়ে দেয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর দাবি, গত একদিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তারা ৩৮০টি স্থানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

পটভূমিতে রয়েছে বড় উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর প্রায় এক সপ্তাহ পরই এর জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে হিজবুল্লাহ।

এর মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও, ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যেতে থাকে।

যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সরাসরি আলোচনা শুরু হয়, তখন তেহরান শর্ত দেয়—লেবাননে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে। এর পর ইসরায়েল রাজধানী বৈরুতে হামলা বন্ধ করলেও, দক্ষিণাঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলে, নতুন করে শর্ত দেয় তেহরান—আলোচনা শুরুর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।

এর পাশাপাশি, ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনাও হয়। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পরই অবশেষে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ।

 

news