যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও লেবাননে মোতায়েন সেনাদের ওপর কোনো ধরনের হুমকি এলে “পূর্ণ শক্তি” প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, লেবাননে থাকা ইসরায়েলি সেনারা যদি কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হামলার মুখে পড়ে, তাহলে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও স্থল ও আকাশপথে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক অনুষ্ঠানে কাৎজ জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, লেবাননে সেনাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন যেকোনো স্থাপনা বা সড়ক ধ্বংস করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সীমান্তবর্তী যেসব গ্রামকে তারা হুমকি হিসেবে দেখছে, সেগুলোর ঘরবাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কাৎজের ভাষায়, এসব বাড়িঘর নাকি হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই সেগুলো অপসারণই তাদের লক্ষ্য।

সামরিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু সেই দিনই দক্ষিণ লেবাননে এক বিস্ফোরণে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন।

এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী বিন্ত জুবাইল শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এলাকাটি এর আগেও একাধিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দক্ষিণ লেবাননে একটি তথাকথিত “নিরাপত্তা অঞ্চল” গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হবে।

তার দাবি, এই সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং উত্তর সীমান্ত থেকে হুমকি দূর করা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আসলে নতুন করে আগ্রাসনের ইঙ্গিত। যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল তাদের অবস্থান আরও শক্ত করছে—এমন অভিযোগও উঠছে।

অন্যদিকে ইরানপন্থী প্রতিরোধ শক্তিগুলো বলছে, এই ধরনের হুমকি তাদের দমাতে পারবে না। বরং প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো চরম উত্তপ্ত। যে কোনো সময় নতুন করে বড় সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

news