মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ কি কমতে চলেছে? আশার আলো দেখাচ্ছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। খবরটি দিচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক পাতার সমঝোতা স্মারকে ৩০ দিনের আলোচনার কাঠামো ঠিক করা হয়েছে। সেখানে জায়গা পেয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো বড় বড় ইস্যু।

সূত্রের খবর, কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পেতে চায় ওয়াশিংটন। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দুই দেশ এত কাছাকাছি এসেছে কোনো চুক্তিতে।

খসড়া প্রস্তাবটি একটু খুলে বলি। সেখানে কী আছে? ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আরও বেশি ঢুকতে দেবে। আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা কমাবে এবং ইরানের জব্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ছেড়ে দেবে।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে সম্প্রতি উত্তেজনায় ব্যাহত হওয়া আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করতেও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আছে প্রস্তাবে।

তবে সবচেয়ে বড় অমিমাংসা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা নিয়ে। ইরান পাঁচ বছরের জন্য এই কার্যক্রম স্থগিত রাখতে রাজি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে চেয়েছিল ২০ বছর। এখন উভয়পক্ষ ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে দিতেও সম্মত হতে পারে। আগে তারা এই প্রস্তাব একেবারে নাকচ করে দিয়েছিল।

আলোচনা চালাচ্ছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। পরবর্তী বৈঠক হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ অথবা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

এদিকে আলোচনার অগ্রগতিতে খুশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে।

তবে সবাই এত আশাবাদী নয়। ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হরমুজ প্রণালিতে পুরোপুরি নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাদের ভাষ্য, ওমান উপকূল ঘেঁষা বিকল্প পথটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকীর্ণ।

 

news