সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গিবাদ নতুন মাত্রা পাচ্ছে এবং বিশ্ব এখনও এই সাইবার হুমকির মোকাবেলায় সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, রাশিয়ার মস্কোর ক্রোকাস সিটি হল হামলার দুই বছর পর ২০২৬ সালে অভিযুক্তদের ফৌজদারি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এই হামলায় ১৪৯ জন নিহত ও ৬০০ জন আহত হয়েছিল।
২০২৪ সালের ২২ মার্চ সংঘটিত ওই হামলার পেছনে ইস্লামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (ISKP) এর দায়িত্ব স্বীকার করেছে। এই আক্রমণ পরিকল্পিত হয়েছিল আফগানিস্তানের হেরাত থেকে, যেখানে হামলাকারীরা এবং পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে একটিও মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি; সমস্ত সমন্বয় হয়েছিল এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে। একই প্যাটার্নে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরানের কর্মানে আরেকটি হামলা ঘটে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাকিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় পরিচালিত গোয়েন্দা ভিত্তিক অভিযানে ISKP’র উচ্চমূল্যের অনেক সদস্যকে আটক ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিলের মনিটরিং দল এবং পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ISKP সাইবার স্পেসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।
ISKP-এর সাইবার আধিপত্য চারটি প্রধান ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত: প্রথমত, তারা একাধিক ভাষায় (পাশ্তু, দারী, রাশিয়ান, উজবেক, ফার্সি, উর্দু, মালায়লাম, বাংলা ও ইংরেজি) প্রচার করে, যা স্থানীয় দুঃখ-দুর্দশা ও প্যালেস্টাইনের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের মতাদর্শ ছড়ায়। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং চ্যাট এবং বিশেষায়িত ফোরামের মাধ্যমে তরুণদের নিয়োগে তারা দক্ষ। তৃতীয়ত, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল ডোনেশন ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা নিয়ন্ত্রণ এড়ানো সহজ। চতুর্থত, সাইবার স্পেসে তারা হামলার পরিকল্পনা, লজিস্টিক সমন্বয় ও গৌরবায়ন করে, যেখানে মুখোমুখি প্রশিক্ষণের বদলে ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রশিক্ষণ মডেল চালু করেছে।
বিশেষ করে, AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তারা বহুভাষিক প্রচার ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করছে। Crocus City Hall হামলার পর ISKP একটি AI-সৃষ্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যা একইসঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক শ্রোতাদের লক্ষ্য করে তৈরি। এছাড়া, AI-ভিত্তিক চ্যাটবটের মাধ্যমে এককভাবে যোদ্ধাদের রেডিক্যালাইজ করার চেষ্টা তারা করছে, যা মানবিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাকে কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রতিরোধ আরও কঠিন করছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
সাইবার জগতে জঙ্গিবাদের এই নতুন ধারা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় হুমকি স্বরূপ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী যেমন ISKP দ্রুত, গোপনে ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে, তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন কৌশল ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। AI-ভিত্তিক রেডিক্যালাইজেশন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থায়ন বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই, আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করাই এখন সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি।