মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষে ইরান হরমুজ প্রণালীকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যগুলো ব্যর্থ করেছে বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক রাজীব সিক্রি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো এখনও অর্জিত হয়নি।

রাজীব সিক্রি আরটিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের যে সমস্ত লক্ষ্য ছিল, যেমন শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা পারমাণবিক ইস্যু, সেগুলো কোনোভাবেই পূরণ হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানকে জিম্মি করার জন্য বিমান হামলা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত গোলাবারুদের অভাবে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

সিক্রি বলেন, “ইসরায়েল এই যুদ্ধ থামাতে চায় না, কারণ এটি তাদের অস্তিত্বের জন্য একটি মৌলিক ইস্যু।” তিনি ইরানকে “অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “ইসরায়েল ইরানকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে, যা তাদের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়।” এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় এবং ইরানের টিকে থাকা তাদের জন্য এক ধরনের লজ্জাজনক ঘটনা।

রাশিয়াও ইরানের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে কারণ এটি তাদের প্রতিবেশী দেশ। সিক্রি জানান, “রাশিয়া ইরানের পতন চায় না এবং তারা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।” রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভের ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজায় উপস্থিতি এই সমর্থনের প্রকাশ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও সিক্রি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের কিছু অপ্রিয় এবং ভারতবিরোধী নীতির পরিবর্তন এখনো হয়নি এবং বর্তমান তরিক রহমান প্রশাসন তা পুনর্বিবেচনা করেনি।” তিনি বলেন, “ভারতকে বাংলাদেশে চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ১৯৭১ সালের পূর্বাবস্থার পুনরুত্থান ঘটছে যেখানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান একসাথে কাজ করছিল।”

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘর্ষ শুধুমাত্র আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে তার কূটনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার সমর্থন ইরানের অবস্থান শক্তিশালী করায় এই সংঘর্ষের প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এই সংঘর্ষের প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তাই এই সংঘর্ষের পরবর্তী গতি বিশ্ব শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Walton Ads