ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে, যা পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে অবহিত করেছেন ইরানের ওপর নতুন বায়ুসেনা হামলার বিষয়ে এবং ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইরানের সামরিক বাহিনী এর জবাবে অঞ্চলীয় মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কুয়েতের গোলাবারুদের গুদাম, প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা। ইয়েমেনি হুথিরাও এই সংঘাতে অংশগ্রহণ শুরু করেছে, সৌদি আরবের সানাআ বিমানবন্দরের উপর আঘাতের প্রতিশোধ স্বরূপ আবহা বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং সৌদি আকাশসীমায় সকল বাণিজ্যিক বিমানের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।

গত কয়েক মাসে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অস্ত্রবিরতির পর যেভাবে পরিস্থিতি উন্নতি পেয়েছিল, তা আবার ব্যাহত হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে স্বাক্ষরিত একটি ১৪-বিন্দু চুক্তির পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এবং ওমানের জলসীমায় মাইন স্থাপন ছিল। তবে কোনো পক্ষই চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মেনে নিতে চায়নি, ফলে একটি নিরবিচ্ছিন্ন উত্তেজনার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আরব দেশগুলোকে যুদ্ধের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কোনও আরব দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়াতে রাজি হয়নি, কারণ এই অঞ্চলের অবকাঠামো সরাসরি ইরানের সামরিক হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে কিছু পরিমাণ তেল পরিবহন শুরু হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য কিছুটা নামিয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও পারমাণবিক কর্মসূচির মত গুরুতর ইস্যুগুলো এখনো সমাধান হয়নি।

এই সংঘাতকে ‘শ্রডিঙ্গারের যুদ্ধ’ বলা যেতে পারে, যেখানে যুদ্ধ এখনও স্পষ্টভাবে শুরু হয়নি, কিন্তু উভয় পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূর্ববর্তী যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা আবার তাদের কৌশল সাজাচ্ছে, যদিও কোন পক্ষই সম্পূর্ণ বিজয়ের আশ্বাস দিতে পারছে না।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাজারের তেলের অন্যতম প্রধান রুট, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক সংঘাত বাড়লে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে এবং নতুন জোট গঠনের সূচনা হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই সংঘাতের দিকে নিবিড় মনোযোগ রাখা অপরিহার্য।

Walton Ads