যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা করেছেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সামরিক সদস্যদের প্রতি বছর টেস্টোস্টেরন লেভেল পরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন রেপ্লেসমেন্ট থেরাপি প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, পেন্টাগনের এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে পুরুষ সেনাদের প্রাকৃতিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা রক্ষা করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে। হেগসেথ এক তিন মিনিটের ভিডিও বার্তায় এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেন এটি কোনো কৃত্রিম উন্নতি নয়, বরং সেবামূলক সদস্যদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুনঃস্থাপন ও উন্নয়নের জন্য।
এই থেরাপি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে নারীদের জন্য এই ধরনের কোনো পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়নি, এবং পেন্টাগন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়া সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত এবং এটি পুরুষদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে থাকে, যেমন যৌন ইচ্ছার হ্রাস, মেজাজ পরিবর্তন এবং ওজন বৃদ্ধি। যদিও জাতীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, হরমোন থেরাপি কিছু ক্ষেত্রে যৌন ইচ্ছা ও মেজাজে উন্নতি আনে, তবে এটি স্থায়িত্ব, স্মৃতিশক্তি বা সামগ্রিক সুস্থতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না।
এই পরিকল্পনার ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ট্যামি ডাকওর্থ এটিকে “লিঙ্গ-নির্ধারণমূলক যত্ন” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট ক্রিসি হোলাহান মন্তব্য করেছেন যে হেগসেথ “পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রভাব নিচ্ছেন।” সিনেটর কোরি বুকার তাকে “গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নয়” বলে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও বিশ্বমানের জন্য অপমানজনক বলে অভিহিত করেছেন।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই নতুন স্বাস্থ্যনীতি সামরিক কর্মীদের সামগ্রিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধ প্রস্তুতিতে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে। এটি শুধু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি উদ্যোগ নয়, বরং সামরিক নীতিতে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে লিঙ্গ ও স্বাস্থ্য নীতিমালা সংক্রান্ত আলোচনায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপ সামরিক বাহিনীর কার্যক্ষমতা, সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।