যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার ডেটা সুরক্ষায় বড় ধাক্কা, চীনের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী তথ্য হ্যাকের অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এ দাবি করেন এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতাগুলো উন্মোচনের জন্য গোপনীয় তথ্য প্রকাশের কথা জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেন, ‘‘প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকের ভোট সঠিকভাবে গণনা হওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমান সিস্টেম ভয়াবহভাবে ব্যর্থ এবং হ্যাকিংয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’’ তিনি অভিযোগ করেন, চীন ২ কোটি ২০ লাখ আমেরিকান ভোটারের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ পর্যন্ত তথ্য চুরি করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে থাকা ‘ডিপ স্টেট’ নামে একটি গোপন গোষ্ঠী এই তথ্য লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে, যাতে চীনের নির্বাচনী হস্তক্ষেপের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশ পায় না। তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালে এই তথ্য চুরির খবর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধীরে ধীরে জানতে পারে, কিন্তু তা প্রেসিডেন্ট এবং জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়।
ভোটার তথ্য সুরক্ষার দুর্বলতা নিয়ে হোয়াইট হাউস চারটি গোপনীয় নথি প্রকাশ করেছে। প্রথম নথিতে জানানো হয়েছে, রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিছু অরাজনৈতিক গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামো দুর্বল করার ক্ষমতা রাখে। ভোটার নিবন্ধন ডাটাবেস, ইলেকট্রনিক পোলবুক এবং সরকারি নির্বাচনী ওয়েবসাইট বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় নথিতে চীনের ভোটার তথ্য অধিগ্রহণ ও অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে; ১৮টি রাজ্যের দশ কোটি ভোটারের তথ্য চুরি বা কেনা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে। তবে, অনেক রাজ্যে ভোটার তথ্য সরকারি ভাবে বা বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়, তাই এই তথ্য থাকা মানে ভোটের ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি।
তৃতীয় নথিতে মিশিগানের মাসকেগন এলাকায় ভোটার নিবন্ধন নিয়ে অনিয়মের তদন্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তদন্তকারীরা স্বীকার করেছেন যে তারা অন্যের নামে ফর্মে স্বাক্ষর করেছেন, কাল্পনিক ব্যক্তির নিবন্ধন জমা দিয়েছেন এবং কতগুলি আবেদন জমা দিলেন তার ভিত্তিতে উপহার কার্ড পেয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলকে পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধী থাকলে বিচার হবে।
চতুর্থ নথিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি পর্যালোচনায় প্রায় ২৭৮,০০০ অবৈধ নাগরিকের ভোটার তালিকায় থাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, তাদের মধ্যে কেউ ভোট দিয়েছে কি না বা নির্বাচন ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো দাবি করা হয়নি।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ট্রাম্পের এই বিবৃতি ও তথ্য প্রকাশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। ভোটার ডেটা সুরক্ষা এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠায় বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতিতে চীন-আমেরিকা সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।