হরমুজ প্রণালী বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জলপথগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিদিন এখান দিয়ে বিশ্ববাজারের বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানের দীর্ঘদিনের প্রভাব এখন মার্কিন কৌশলের কাছে অনেকাংশেই ম্লান হয়ে গেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণের সময় প্রচলিত বিমানের বদলে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেয় সিক্রেট সার্ভিস। অনেক হুমকি জনসম্মুখে আসে না, কিন্তু একজন প্রভাবশালী নেতার জন্য আকাশপথের ঝুঁকি সবসময়ই বাস্তব।
ইরান-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন বর্তমান ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, ইরান বারবার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে। এই আস্থার সংকটের কারণেই আমেরিকার মূলনীতি এখন কঠোর নজরদারি। ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরান কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। আমেরিকার দাবি, গত পাঁচ দশকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা এখন অনেকটাই সংকুচিত। সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত প্রস্তুতির জোরেই এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।
শেষে বলা যায়, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা, তা কেবল স্থানীয় ইস্যু নয়। এটি মূলত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের একটি অংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে প্রভাব অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। ইরানের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মার্কিন জবাব হবে সুপরিকল্পিত এবং কঠোর, যা এই অঞ্চলের ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।