গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে দামি এবং স্বপ্নের সামরিক প্রকল্প ট্রাম্প ক্লাস (Trump-class) ব্যাটলশিপ। কিন্তু সম্প্রতি কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (CBO) একটি নতুন প্রতিবেদনে এই প্রজেক্টের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা শুনলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে। পুরো কর্মসূচির আনুমানিক খরচ এখন ঠেকেছে আকাশচুম্বী দুই শ পঁচাত্তর বিলিয়ন ডলারে। প্রথম জাহাজ ইউএসএস ডিফায়েন্ট (USS Defiant)-এর পেছনেই খরচ হচ্ছে তেইশ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জলের মতো খরচ করা নিয়ে মার্কিন রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা মহলে এখন চলছে তুমুল ঝড়।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের ট্রাম্প ক্লাস (Trump-class) ব্যাটলশিপ প্রজেক্টের খরচ ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (CBO)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পুরো সামরিক কর্মসূচির খরচ ধরা হয়েছে প্রায় দুই শ পঁচাত্তর বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল অংকের অর্থ নিয়ে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন শ্রেণীর যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির, বৃহত্তম এবং অতীতের যেকোনো ব্যাটলশিপের চেয়ে এক শ গুণ বেশি শক্তিশালী। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি জাহাজ তৈরির কথা থাকলেও পরে এর সংখ্যা কুড়ি থেকে পঁচিশটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশাল উচ্চাশা বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতির ওপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি করেছে।

নতুন এই যুদ্ধজাহাজের প্রথম পতাকার নিচে তৈরি হওয়া জাহাজ ইউএসএস ডিফায়েন্ট (USS Defiant)-এর খরচ ধরা হয়েছে প্রায় তেইশ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রথম জাহাজের জন্য প্রায় সতেরো বিলিয়ন ডলারের অনুদান চেয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই প্রজেক্টের ব্যয় বৃদ্ধির হার পরিকল্পনাকারীদেরও চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় খরচ ইতোমধ্যে ছয় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের মতে, পঁয়ত্রিশ হাজার টন ওজনের একটি পারমাণবিক ব্যাটলশিপ তৈরি করতে প্রায় আঠারো বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। কিন্তু যদি এই যুদ্ধজাহাজের ওজন বাড়িয়ে একচল্লিশ হাজার টন করা হয়, তবে প্রতি জাহাজের খরচ ষোলো শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে পুরো প্রজেক্টের মোট খরচ প্রায় পাঁচ শ আঠাশ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সাধারণ মার্কিন করদাতাদের জন্য এক বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নকশার দিক থেকে এই যুদ্ধজাহাজটি হবে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী এবং অস্ত্রসজ্জিত সারফেস ওয়ারশিপ। এতে যুক্ত করা হচ্ছে এক শ আঠাশটি মার্ক ফোরান্টি ওয়ান ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল এবং উন্নত এএন স্পাই সিক্স (AN/SPY-6) এয়ার ডিফেন্স রাডার। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এতে রাখা হচ্ছে শক্তিশালী ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেলগান এবং হাইপারসনিক মিসাইল টিউব। প্রযুক্তির দিক থেকে এটি অতুলনীয় হলেও এর বাস্তবায়ন বেশ জটিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জাহাজটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌবাহিনীর তৈরি করা যেকোনো সারফেস কমব্যাট্যান্টের চেয়ে অনেক বড়। এটি আরলেই বার্ক (Arleigh Burke)-ক্লাস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ বড় হবে। এমনকি জুমওয়াল্ট (Zumwalt)-ক্লাস ডেস্ট্রয়ারের তুলনায় এর আকার হবে দ্বিগুণেরও বেশি। এত বিশাল আকারের যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করা নৌবাহিনীর জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

এই যুদ্ধজাহাজের অস্ত্রাগারে যুক্ত হতে চলেছে পরমাণু অস্ত্রবাহী সমুদ্র থেকে নিক্ষিপ্ত ক্রুজ মিসাইল বা এসএলসিএম-এন (SLCM-N)। নৌবাহিনীর বর্ণনা অনুযায়ী, এই মিসাইলের সংখ্যা কম হলেও এর উপস্থিতি যুদ্ধজাহাজটির শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ১৪টি ওহাইও (Ohio)-ক্লাস ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন বাদে নৌবাহিনীর অন্য যেকোনো জাহাজের চেয়ে এটি বেশি ফায়ার পাওয়ার বহন করবে। পরমাণু অস্ত্রের সংযোজন এই প্রজেক্টের খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে এই খরচগুলো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং পরিবর্তনশীল। প্রজেক্টের নকশা এবং সামগ্রিক কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক হিসাব কষা হয়েছে। এর বাইরেও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক কারণে খরচ আরও বাড়তে বা কমতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পারমাণবিক পাওয়ারের পরিবর্তে প্রচলিত ইঞ্জিন ব্যবহার করলে খরচ প্রায় তেরো শতাংশ কমানো সম্ভব হতো।

এই বিশাল ব্যয় বরাদ্দের প্রজেক্টটি সফল করার জন্য মার্কিন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আগামী দুই হাজার আটান্ন সালের মধ্যে বড় ধরনের সারফেস কমব্যাট্যান্টের নির্মাণ কাজ ষাট শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। এর ফলে মার্কিন শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রির ওপর প্রচণ্ড মাত্রার চাপ সৃষ্টি হবে, যা সামলানো বেশ কঠিন হতে পারে। দুই হাজার পঁয়ত্রিশ সালের মধ্যে শিপইয়ার্ডগুলোকে আরও বেশি টনিয়েজ উৎপাদন করতে হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও সিবিও (CBO) এই ব্যাটলশিপের খরচ নিয়ে অন্যরকম পূর্বাভাস দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল যে প্রথম জাহাজের খরচ একুশ থেকে বাইশ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানের এই নতুন প্রতিবেদন সমস্ত আগের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। করদাতাদের পকেট থেকে আরও বেশি অর্থ বের করে নেওয়ার এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিক ও বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউএসএস ডিফায়েন্ট (USS Defiant)-এর মতো ভারী এবং বিশাল ব্যাটলশিপ শত্রুর আক্রমণের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরমাণু ও হাইপারসনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও এর বিশাল আকৃতির কারণে এটি সহজেই শত্রু দেশের টার্গেট বা বোম ম্যাগনেট হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে সামরিক গবেষকদের মনে রয়েছে গভীর সংশয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর বর্তমান যুদ্ধবিগ্রহের মূল নীতি হলো বিকেন্দ্রীভূত ফায়ার পাওয়ার (distributed firepower)। এই নীতির উদ্দেশ্য হলো সেন্সর এবং আক্রমণ ক্ষমতাকে একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে না রেখে ডেস্ট্রয়ার এবং ড্রোন সিস্টেমের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং নৌবহরের টিকে থাকার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু একটিমাত্র বিশাল ব্যাটলশিপ তৈরি করা এই নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

ভারতীয় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল গিরিশ কুমার গর্গ (Girish Kumar Garg) ইউরেশিয়ান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রজেক্টকে উন্মত্ততা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, যেকোনো যুদ্ধজাহাজের ক্ষমতার কথা বিবেচনা করলেও এই দাম সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমেরিকার মতো ধনী দেশও যদি এই খরচ বহন করে, তবুও এটি করদাতাদের অর্থের চরম অপচয়। বর্তমান যুদ্ধপদ্ধতি যখন এয়ার ও আন্ডারওয়াটার ড্রোনের দিকে ঝুঁকছে, তখন এমন খরচ কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

ন্যাটোর (NATO) সাবেক সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভ্রিডিস (James Stavridis) ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক কলামে এই প্রজেক্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন যে আজকের ড্রোন সোয়ার্ম, গোপন সাবমেরিন এবং সাইবার অস্ত্রের যুগে এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা সম্পূর্ণ বোকামি। সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখার মতো এই নীতি আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই মেলে না।

অনেকে আবার এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রজেক্টটি বাতিলও হয়ে যেতে পারে। আর যদি এমনটা ঘটে, তবে আমেরিকান করদাতাদের হাজার হাজার কোটি ডলার জলে যাবে। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এই সামরিক প্রজেক্টটি শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে রয়েছে। পেন্টাগনের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই ব্যাটলশিপের খরচ একটি বিমানবাহী রণতরীর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্ব বিমানবাহী রণতরীর উচ্চ মূল্য নিয়েও অতীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নৌবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি জন ফেলান (John Phelan) চলতি বছরের শুরুতে ডিজাইনের খরচ পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে রণতরীর ভবিষ্যত সংস্করণগুলো বাতিল করার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উদাহরণস্বরূপ, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড (USS Gerald R. Ford) রণতরীটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল প্রায় তেরো দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার। অথচ ট্রাম্প ক্লাস ব্যাটলশিপের প্রত্যাশিত খরচ তার দ্বিগুণের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। বর্তমান নৌবাহিনীর নেতারা বাজেট নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও এমন মেগাপ্রজেক্টে অনুমোদন দেওয়া নিয়ে নিজেদের ভেতরই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে।

চলতি বছরের মে মাসে ক্যাটো ইনস্টিটিউট (Cato Institute) এই ব্যাটলশিপকে অপ্রয়োজনীয় এবং অকার্যকর বলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের পলিসি অ্যানালিস্ট বেন গিল্টনার (Ben Giltner) ফর্চুন ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই ধরনের জাহাজ আমরা আর ব্যবহার করিনি। কারণ যুদ্ধের সময় আকাশ থেকে আসা বিমান সহজেই সমুদ্রের বুকে এটিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

বেন গিল্টনার আরও জোর দিয়ে বলেছিলেন যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে অন্য অনেক দরকারী কাজ করা সম্ভব ছিল। এমনকি আমেরিকার বিশাল জাতীয় ঋণের বোঝা এবং তার সুদের টাকা পরিশোধ করার কাজেও এই অর্থ ব্যবহার করা যেত। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা অর্থনৈতিক নীতির পরিপন্থী। সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে অপচয় করা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

ট্রাম্প ক্লাস ব্যাটলশিপের এই আকাশছোঁয়া খরচের তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন পেন্টাগনজুড়ে বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট করছে। একদিকে চলছে সরকারি খরচ কমানোর তোড়জোড়, অন্যদিকে কোটি কোটি ডলারের এমন বিলাসবহুল প্রজেক্ট অনুমোদন নিয়ে চলছে চরম স্ববিরোধী নীতি। এই দ্বিমুখী নীতির ফলে সাধারণ মানুষের মনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

সেনেট বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর জেফ মার্কলে (Jeff Merkley) সিবিও (CBO) প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক কড়া বিবৃতিতে নিজের মতামত জানান। তিনি বলেন যে আমরা পেন্টাগনের এমন অনেক প্রজেক্ট দেখেছি যা কেবল অতিরিক্ত খরচ, বিলম্ব এবং অবাস্তব প্রতিশ্রুতির বোঝায় জর্জরিত। কংগ্রেসের পক্ষে এমন আরেকটি বিশাল সামরিক বন্ডগল বা অর্থ অপচয়ের ফাঁদে পা দেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়।

এই সামরিক প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স বা মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের কোষাগার ভারী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বা দেশের প্রকৃত প্রতিরক্ষা শক্তির চেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনই এখানে প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রজেক্টের উপযোগিতা নিয়ে তৈরি হওয়া এই সংশয় সহজে কাটছে না। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন এক বিরাট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষার সময়।

সার্বিক দিক বিবেচনা করলে, ট্রাম্প ক্লাস ব্যাটলশিপ প্রজেক্টটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপের রূপ নিতে চলেছে। একদিকে বিশাল আর্থিক ব্যয়, অন্যদিকে আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে এর চরম দুর্বলতা—সব মিলিয়ে এটি এক অকার্যকর পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার শেষ পর্যন্ত এই মেগাপ্রজেক্টে অনড় থাকে নাকি জনগণের চাপে তা বাতিল করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Walton Ads