বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে নিজের একমাত্র ঠিকানা বলতেন। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর বিশ্বাসও একই। তাই তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের শক্তিতেই দেশকে আবার গড়ে তুলতে চায়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষ তাদের ছিনিয়ে নেওয়া অধিকার ফিরে প্রয়োগ করবে। "এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের নয়, এটি দেশকে নতুন করে গড়ে তোলারও নির্বাচন," বলেন তিনি।
নারীদের নিয়ে তিনি বলেন, নারীদের কাজের সুযোগ না দিলে দেশ এগোতে পারবে না। "খালেদা জিয়া নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর হাতে একটি করে 'ফ্যামিলি কার্ড' পৌঁছে দিতে চাই," যোগ করেন তিনি।
কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' নিয়ে তিনি বলেন, "কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ পাবে। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণগুলো আমরা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য শোধ করে দেব।"
তিনি আরও বলেন, "এই এলাকা কৃষিনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াব, তেমনি কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলব, যাতে নতুন কর্মসংস্থান হয়। অনেক যুবক বেকার আছে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমিকে পরিণত করতে চাই। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজে জনগণের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।"
জনসভায় তিনি এলাকাবাসীর কিছু দাবির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল ও তাঁতশিল্প গড়ে তোলা হবে। ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তার চেষ্টার কথাও বলেন তিনি। পুরো এলাকায় হিমাগার নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি জনসভায় শুধু বিরোধী দলকে গালমন্দ করলে জনগণের কোন লাভ হয় না। "জনগণ জানতে চায় আমরা তাদের জন্য কী করব। তাই আমরা আমাদের পরিকল্পনাই তুলে ধরেছি," যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "২০২৪ সালে আমরা অভ্যুত্থানের হাত থেকে দেশ রক্ষা করেছি। এখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা কারও ধর্ম দেখিনি, ২০২৪-এও দেখব না। এই দেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে, আগামীতেও থাকবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হবে।"
