মাত্রই শেষ বলের নাটকীয়তায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়—চেহারায় হতাশা ছিলই। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর শুরু হতেই সেই হতাশা যেন আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ উঠতেই বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আপনি কি নিশ্চিত যে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি?’
এই প্রশ্নেই যেন বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তার পুরো চিত্র তুলে ধরলেন লিটন। ছোট ছোট উত্তরে স্পষ্ট করেই জানালেন, বিশ্বকাপ খেলা বা না খেলা নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনা করেনি বিসিবি। আর ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার বোর্ডের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে অধিনায়কের সংক্ষিপ্ত জবাব—‘নো কমেন্টস।’
মঙ্গলবার বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলে সিলেট টাইটান্সের কাছে ৩ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় রংপুর রাইডার্স। ফেভারিট হিসেবে আসা দলটির এমন বিদায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সব ছাপিয়ে যায় বিশ্বকাপ ইস্যু।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে রংপুরের করা ১১১ রান শেষ বলে টপকে যায় সিলেট। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের প্রথম প্রশ্নেই বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ টানা হয়। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাচ্ছে ধরে নিয়ে এমন উইকেটে খেলা আদর্শ কি না—এ প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন,
‘আপনি কি নিশ্চিত যে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি? বিশ্বকাপে যেতে এখনো অনেক দিন বাকি, আদৌ যাব কিনা সেটাই তো নিশ্চিত না। টি-টোয়েন্টির জন্য এটা কোনোভাবেই আদর্শ উইকেট নয়। কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আমরা আরও ভালো উইকেট প্রত্যাশা করেছিলাম।’
গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে ছাড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপরই বাংলাদেশে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। পরদিনই বিসিবি আইসিসিকে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকেও একই বক্তব্য আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত নয়, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের আবেদন জানায় বিসিবি।
তবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চিঠি চালাচালি, ভার্চুয়াল সভা ও সরাসরি বৈঠক হলেও আইসিসির সঙ্গে সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি বোর্ড। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে আর রাজি নয়। এমনকি বাংলাদেশ ভারতে খেলতে না চাইলে বিকল্প দল নিয়েও ভাবছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিসিবিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এই দীর্ঘ আলোচনার মধ্যেও যাদের নিরাপত্তা নিয়ে এত বিতর্ক, সেই অধিনায়ক লিটন কিংবা দলের অন্য কোনো ক্রিকেটারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেনি বিসিবি—সংক্ষিপ্ত উত্তরেই তা নিশ্চিত করেন লিটন। আলোচনা করা উচিত ছিল কি না, সে প্রশ্নে আর কিছু বলতে চাননি তিনি।
গত বছরের শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নানা সিরিজ খেলেছেন লিটনরা, দল গঠনের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে। পরিস্থিতি আদর্শ না হলেও সেটাকে মেনে নেওয়ার কথা জানান অধিনায়ক,
‘জীবনে অনেক কিছুই আদর্শ হয় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হয়। বিপিএলে এত ম্যাচ খেললাম, সেটাও পুরোপুরি আদর্শ ছিল না, তবু খেলতে হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শুকনো হাসি দিয়ে লিটন বলেন, ‘কেউ আমার উত্তরে কষ্ট পাবেন না।’
