আইপিএলের আসন্ন আসরে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেওয়ার পরই শুরু হয় বিতর্ক। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের চাপ এবং নিরাপত্তা ইস্যুর কথা বলে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন উঠেছে—আইপিএলে যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে ভারত, তাহলে ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, টিম অফিসিয়াল ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে?

এই নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় বিসিবি। পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী ছিল।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ডসভায় চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বে পূর্ণ সদস্যভুক্ত ১৬টি দেশের বোর্ড পরিচালকরা অংশ নেন। সভা শেষে আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে আজ বিকেলে ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন,
‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটের অনেক বড় ভক্ত। বাংলাদেশ দলে লিটন আছে, মিরাজ আছে, নাজমুল আছে, সোহান আছে, তামিম আছে—আমি সবারই ভক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই চেয়েছি, বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমাদের ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করেই এই জায়গায় এসেছে।’

তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের কথা আবারও তুলে ধরেন তিনি। আসিফ নজরুল বলেন,
‘ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা আমরা বলছি, সেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই আশঙ্কা কোনো অনুমান বা কল্পনা থেকে আসেনি। এটা এসেছে বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা খেলোয়াড়কে উগ্রবাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কার্যত দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে—সোজা কথায়, বের করে দিতে বলেছে।’

এ অবস্থায় ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হলো।

 

news