পুরো চট্টগ্রামের চোখ জুড়ে ছিল এক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের দিকে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা জয়ের স্বাদ পেতে ১৭৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সেই সংকটকালে হাল ধরে রাখার দায়িত্ব পড়ে ওপেনার মোহাম্মদ মিরাজ বেগের কাঁধে। এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ভরসা রাখেন ভক্তরা।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভরসার জবাব দিতে পারেননি মিরাজ। ১১.৩ ওভারে দলীয় স্কোর মাত্র ৯২ রান থাকা অবস্থায় ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। মোহাম্মদ হাসান মুরাদের বলেই তিনি ক্লীনবোল্ড হন। তার আগে ৩৬ বলের ইনিংসে ২টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ।
আসলে, সুযোগ বারবার আসে না। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স এই নিয়ে তৃতীয়বার বিপিএলের ফাইনালে খেলে। এর আগে দুইবারই ফাইনালে হেরে শিরোপা জয় থেকে বঞ্চিত হয় তারা। এবারও সেই ধারা ভাঙা হলো না। ট্রফি আবারও তাদের হাতছাড়া।
শুক্রবার, রাজধানীর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তোলে। তাদের এই সংগ্রহ গড়তে মূল ভূমিকা পালন করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, যিনি রেকর্ড গড়া এক সেঞ্চুরি করেন।
ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তানজিদ। ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে গেইল ও ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করেছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই তারকা ওপেনার রাজশাহীর হয়ে ফাইনালে ৬১ বলের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এতে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। এর মাধ্যমেই তিনি পৌঁছান ১০০ রানের ম্যাজিকাল ফিগারে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন রাজশাহীর ওপেনাররা। শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিমের ওপেনিং জুটি মাত্র ১০.২ ওভারে গড়ে তোলে ৮৩ রানের দ্রুতগতির পার্টনারশিপ।
শাহিবজাদা ফারহান ৩০ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ রান করে আউট হন। কিন্তু তামিম একাই দলের রান যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি প্রথম ২৯ বলেই ৬টি ছক্কার সহায়তায় অর্ধশতক পূরণ করেন। পরের ৩১ বলে তা রূপান্তরিত করেন সেঞ্চুরিতে। এই সেঞ্চুরি বিপিএলে তার তৃতীয়।
৬১ বলে সেঞ্চুরি করার পরও তামিম বেশিদুটো থাকতে পারেননি। ১৮.৫ ওভারে দলীয় স্কোর ১৬৩ রান হলে তৃতীয় উইকেট হিসেবে তিনি আউট হন। এরপর শেষ ৭ বল সংগ্রহ করতে গিয়ে রাজশাহী হারায় তাদের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে।
রাজশাহীর পক্ষে তানজিদ হাসান তামিম করেন ১০০ রান, শাহিবজাদা ফারহান ৩০, কেন উইলিয়ামস ২৪ রান করেন ১৫ বলে। অধিনায়ক শান্ত ইনিংসের শেষদিকে এসে ৭ বলে করেন ১১ রান।
B
