দেখতে দেখতেই শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) রোমাঞ্চকর ১২তম আসর। ২০২০ সালের পর ফের সোনালি ট্রফি ঘরে তুলল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

শুর্কবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে বিশাল ৬৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পায় রাজশাহী।

এই আসরে দল হিসেবে সেরা পারফরম্যান্স ছিল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর। রানার্সআপ হলো চট্টগ্রাম। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্যের নেপথ্যে কারা ছিলেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্যাট-বলে শীর্ষ সেরাদের হালনাগাদ তালিকা।

ব্যাটিংয়ে রাজত্ব যাঁদের

ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে শীর্ষে রয়েছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের পারভেজ হোসেন ইমন। তিনি ১২ ম্যাচে তিনটি অর্ধশতকসহ জমা করেছেন ৩৯৫ রান।
তাঁর পিছু নিয়েই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়। ১১ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে তাঁর রান ৩৮২।

রান সংগ্রহে তৃতীয় স্থানটি দখল করেছেন রাজশাহীরই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। যিনি ফাইনালেই ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। ১৩ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৩৫৬ রান।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন শিরোপাজয়ী দলের অধিনায়কই – নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ১৩ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে সংগ্রহ করেছেন ৩৫৫ রান।
এরপর পঞ্চম স্থানে রংপুর রাইডার্সের ডেভিড মালান, যিনি মাত্র ৯ ম্যাচেই ঝড়ো ৩০০ রান তুলেছেন।

বোলিংয়ে ত্রাসের রাজা শরিফুল

বল হাতে এবারের বিপিএলে একক ডোমিনেন্স দেখিয়েছেন রানার্সআপ দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বামহাতি স্পিনার শরিফুল ইসলাম। মাত্র ১২ ম্যাচেই তিনি শিকারে নিয়েছেন ২৬টি উইকেট। গত আসরে তাসকিন আহমেদের ২৫ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

বোলিং তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে সিলেট স্ট্রাইকার্সের নাসুম আহমেদ (১২ ম্যাচে ১৮ উইকেট), তৃতীয় রাজশাহীর রিপন মন্ডল (মাত্র ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট), চতুর্থ নোয়াখালী ওয়ারিয়র্সের হাসান মাহমুদ (১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট) এবং পঞ্চম স্থানে সমান উইকেট (১১ ম্যাচে ১৬) নিয়েই আরেক রাজশাহী বোলার বিনুরা ফার্নান্ডো।

কিছু মজার রেকর্ড ও পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস: রংপুরের তাওহীদ হৃদয়ের ১০৯ রান (নোয়াখালীর বিপক্ষে)।

সবচেয়ে বেশি ছক্কা: যৌথভাবে সিলেটের পারভেজ হোসেন ইমন ও রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম (প্রত্যেকে ১৯টি)।

সেঞ্চুরির সংখ্যা: এবারের আসরে মোট চারটি সেঞ্চুরি হয়েছে। হাসান ইসাখিল, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ফাইনালে তানজিদ হাসান তামিম।

সবচেয়ে বেশি ক্যাচ: রংপুরের লিটন কুমার দাস ও রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম (প্রত্যেকে ১০টি)।

সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ: এবারের আসরে কোনও দল ২০০ রানের ম্যাজিকাল সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের, সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ১৯৮ রান।

 

news