উচ্চচাপের পেশায় কাজ করলে—সেটা খেলাধুলা হোক, করপোরেট জীবন, সেবার কাজ বা সৃজনশীল কোনো ক্ষেত্র—মানুষের জন্য বিশ্রাম, দুর্বলতা দেখানো বা নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় খুব কম থাকে। ফলে মানসিক চাপ চুপচাপ জমতে থাকে। ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা এবার এই সত্যিটা খুব খোলামেলা করে বলেছেন।

দ্য লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশনের এক পডকাস্টে ফাউন্ডেশনের সিইও অনিশা পাডুকোন আর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শ্যাম ভাটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সানিয়া।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে কবজিতে খুব গুরুতর চোট পান। এর জন্য অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। তখন মনে হয়েছিল, টেনিস ক্যারিয়ার এখানেই শেষ!
সানিয়া বলেন, “আমি তখন জানতাম না যে আরও তিনটা অলিম্পিকে খেলব। কিন্তু সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল—‘হায় ঈশ্বর, আমার জীবন শেষ হয়ে গেল’। কবজির অবস্থা এত খারাপ ছিল যে চুল আঁচড়াতেও পারতাম না।”

চোটের ভয়াবহতা তাকে মানসিকভাবে একদম ভেঙে দেয়। কবজি নাড়াতে না পারায় ভাবতে শুরু করেন, হয়তো আর কখনো কোর্টে ফিরতে পারব না।
তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো মনে হয়েছিল, আমি বাবা-মাকে হতাশ করছি। তখন বুঝতেই পারিনি এটা বিষণ্নতা। প্রায় দেড় মাস শুধু ঘরে বন্দি ছিলাম। কারও সঙ্গে দেখা করতে চাইনি, এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গেও খুব কম কথা হয়েছে। সেই সময়টা ছিল ভয়ংকর।”

তবে এই কঠিন সময়েও টেনিসের প্রতি ভালোবাসা তাকে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। তিনি জানান, কয়েক মাস এভাবে কাটার পর বুঝতে পারেন, নিজের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারছেন না।
সানিয়া বলেন, “মানসিক চাপ বাড়লে আমি কোর্টে চলে যেতাম। টেনিস খেললে ভালো লাগত। সত্যিকারের আনন্দ পেতাম শুধু খেলার সময়।”
ডা. শ্যাম ভাট এ প্রসঙ্গে বলেন, সফল মানুষদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা অনেক সময় অন্যভাবে প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, “আমি এটা প্রায়ই দেখি—যারা অনেক সাফল্য পেয়েছেন, তাদের আবেগের কষ্টগুলো অনেক সময় শিল্প, খেলাধুলা বা সৃজনশীল কাজে রূপান্তরিত হয়ে যায়।”

 

news