ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে শুধু নিষিদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আওয়ামী লীগকে শুধু নিষিদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এটি আমার ব্যক্তিগত অবস্থান। এখন প্রশ্ন হলো, এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের নজির রয়েছে। আমি নিজ চোখে আওয়ামী লীগের গুলিতে আমার ভাইদের শহীদ হতে দেখেছি, গুমের শিকার হয়েছি এবং মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চিন্তা করা একেবারেই অযৌক্তিক। আমার বক্তব্য কিছু মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়নি। আগে বিচারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রশ্নের একটি স্থায়ী সমাধান দরকার, তা না হলে আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে আবারও ফিরে আসার সুযোগ পাবে।'

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, 'আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু তাতে কি জামায়াতের রাজনীতি বন্ধ হয়েছে? এটি যদি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে না হয়, তাহলে এর সফলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। ১৬ বছরে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না হয়েও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীর সংখ্যা অনেক।'

তিনি বলেন, 'অনেকেই বলছেন, অন্যায় না করলে ক্ষমা চাইবে কেন? অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। আওয়ামী লীগের সাথে যে কোনোভাবে জড়িত থাকার কারণে, ফ্যাসিস্ট সহযোগী কিংবা সুবিধাভোগী হিসেবেই ক্ষমা চাইতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে।'

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, 'নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আইনগত ও সামাজিকভাবে (ট্রুথ কমিশন কিংবা বিশ্বের অন্যান্য নজির অনুসরণ করে) আওয়ামী লীগকে আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করতে হবে।

news