সিলেটের মাঠে মাঠে এখন বোরো ধানের সোনালি আভা, কিন্তু কৃষকদের চোখে উদ্বেগ। এবার বোরো মৌসুমে তীব্র তাপপ্রবাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) যদিও বলছে দেশে বোরোর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কিন্তু সিলেটের কৃষকরা ভিন্ন গল্প বলছেন।

হাওরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল মালেকের জমিতে ধান ফুলে বেরিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গত কয়েকদিনের তাপদাহে ধানের গায়ে চিটা দেখা দিয়েছে। "এই মরশুমে রোদের তেজ অনেক বেশি, আর বৃষ্টি নেই বললেই চলে," বলছিলেন তিনি। ব্রি'র পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকদের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, কিন্তু সেচের পানির অভাব আর বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলেটের হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওরগুলোতে ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, "আগাম ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, কিন্তু ফলন আশানুরূপ হচ্ছে না।" অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের জমিগুলোতে ধানের অবস্থা তুলনামূলক ভালো, তবে সেখানেও কৃষকরা একটু বৃষ্টির প্রত্যাশী।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি কিছু বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ধানের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। যশোরে ইতিমধ্যে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, আর দেশের ৪০টি জেলায় মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য ছিল, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ টন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ৪ লাখ টন কমার শঙ্কা প্রকাশ করেছে। ব্রির মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান অবশ্য এ তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, "এখনই উৎপাদন কম হবে বলে ধরে নেওয়ার সময় আসেনি।"

সিলেটের কৃষকরা এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে। একটি ভালো বৃষ্টি তাদের শঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় ব্রি'র পরামর্শ হলো: জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া, ধানের গোড়ায় পচা সার প্রয়োগ করা এবং রোগবালাইয়ের জন্য সতর্ক থাকা। কৃষকদের এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

#বোরো_ধান #তাপপ্রবাহ #সিলেট_কৃষি #ধান_চাষ #ফসল_সংকট

news