ডলারের আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হওয়ায় দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছর পর বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি কাটিয়ে উদ্বৃত্ত হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ঘাটতি কমে তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত হয়। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-ডিসেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে উদ্বৃত্ত হয়েছে তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগে নভেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ২৩ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে টানা ঘাটতি দেখা দেয় এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ডলার সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও ডলার ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক**।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় কমে আসায় ঘাটতি কমেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আগের সরকার বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করায় ঋণের বোঝা বেড়েছে। ২০২২ সালে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে রিজার্ভও চাপে পড়ে।
বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ডলার সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। টাকা পাচার হ্রাস, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি কমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৬ কোটি ডলারে।


