বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পারিবারিক মিলনমেলা। দিনভর ছিল হাসি, উচ্ছ্বাস, কুশল বিনিময় আর আড্ডার রেশ। নবীন–প্রবীণদের মিলন, পরিচালক-শিল্পী-বিনোদন সাংবাদিকদের পদচারণায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন। প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচে ছিল বাড়তি উত্তেজনা, আর পরিচালকদের পরিবারের সদস্যরা মেতে ওঠেন মিউজিক পিলো খেলায়।
এক দিনের জন্য শহুরে কোলাহল ছেড়ে সবাই হারিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামীন নির্জনতায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্যের উষ্ণ আবহ। যেন এক অন্যরকম দিন। সুকণ্ঠী গায়িকা কনা ও জনপ্রিয় গায়ক রবি চৌধুরীর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মিলনমেলার পর্দা নামে। এরপর সবাই ফিরে যান নিজ নিজ গন্তব্যে।
ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অবস্থিত মনোরম পর্যটনকেন্দ্র মডার্ন গ্রিন সিটি ছিল এবারের মিলনমেলার ভেন্যু। সবুজে ঘেরা পরিবেশে চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের এই মিলনমেলা পরিণত হয় এক স্মরণীয় উৎসবে।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের বহু পরিচিত ও গুণী ব্যক্তিত্ব। পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, সাঈদুর রহমান সাঈদ, ছটকু আহমেদ, দেওয়ান নজরুল, ফজলে হক, রফিকুজ্জামান, দেওয়ান নাজমুল, সাদেক সিদ্দিকী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সফি উদ্দিন সাফি, গাজী জাহাঙ্গীর, জাহিদ হোসেন, গাজী মাহবুব, নজরুল ইসলাম খান, দেবাশীষ বিশ্বাস, সাইমুন তারেক, ইস্পাহানি আরিফ জাহান, হাসিবুর রেজা কল্লোল, চয়নিকা চৌধুরী, গীতালী হাসান, ওয়াজেদ আলী সুমন, রবিন খান, সাঈফ চন্দন, পরিচালক সমিতির নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সমিতির সব সদস্যরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি শামসুল আলম, ফরমান আলী, জাহাঙ্গীর সিকদার, চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা রোজিনা, নায়িকা মুক্তি, রঞ্জিতা, আন্না, মাসুকা নাসরিন রাকা, বিন্দিয়া, বিশিষ্ট টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। পাশাপাশি ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, তুষার আদিত্য, দুলাল খান, রিমন মাহফুজ, বাচসাস সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল্লাহ, রুহুল আমিন ভূইয়া, আসিফসহ আরও অনেক বিনোদন সাংবাদিক।
দিনব্যাপী আয়োজনজুড়ে ছিল খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র্যাফেল ড্র, হাসি-আড্ডা ও পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মিলনমেলাটি হয়ে ওঠে আরও রঙিন ও বর্ণিল।
পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালকদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং পরিবারসহ আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই মিলনমেলার আয়োজন।
সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল বলেন, পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে দিনটিকে রঙিন করে তুলতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সবাই যদি একটু আনন্দ নিয়ে ফিরতে পারেন, সেটাই আমাদের সাফল্য।
উপ-মহাসচিব কবীরুল ইসলাম রানা বলেন, বড় আয়োজন হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সুন্দরভাবে শেষ করতে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আশা করি সদস্যরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন। চলচ্চিত্র পরিবারকে একসূত্রে বাঁধার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলবে।
এই আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে মিলনমেলা সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি প্রশংসা পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিক। তবে দুপুরের খাবার পরিবেশনায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, যা নিয়ে উপস্থিত অনেকের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল।
