যারা আজ পর্যন্ত ওসমান হাদিকে নিয়ে রাজনীতি করেছেন, সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন, তারা এখন কোথায়? কেন খুনিরা গ্রেফতার হওয়ার পর আপনাদের সবার মুখে কুলুপ? আজ দেখাবো কীভাবে পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র চলছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে সত্যের জয় হলো! ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, পাপ কখনো গোপন থাকে না। ওসমান হাদি ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে নিয়ে সারা বাংলা কেঁদেছে। অথচ একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ এই মৃত্যু নিয়ে নোংরা খেলা শুরু করেছিল। তারা সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য কি বিচার পাওয়া ছিল নাকি অরাজকতা সৃষ্টি করা ছিল? আজ সেই প্রশ্ন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ জনগণের সামনে।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আক্রমণ করা হয়েছে। অত্যন্ত নোংরা ভাষায় তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে হত্যার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যারা দিনরাত এক করে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক সুগভীর চক্রান্ত চলছিল তখন। অথচ ওসমান হাদির প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করতে এই গোয়েন্দা সংস্থাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে।
যখন ওসমান হাদির আসল হত্যাকারীরা ভারতীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলো, তখন দৃশ্যপট পাল্টে গেল। যারা এতদিন রাজপথ কাঁপিয়েছিল, যারা বড় বড় ভাষণ দিয়েছিল, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খুনিরা ধরা পড়ার পর তাদের মুখে যেন কুলুপ এঁটে গেছে। সত্য সামনে আসার পর তাদের সমস্ত সাজানো নাটক আজ সাধারণ মানুষের কাছে পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা এই খুনিদের ধরে আনলেন, সেই প্রশাসনকে ধন্যবাদ দেওয়ার সৌজন্যবোধটুকু তারা দেখায়নি। যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ওসমান হাদির আত্মা শান্তি পেল, তাদের অভিনন্দন জানাতে কেন আপনাদের এত কুণ্ঠা? এতে কি এটাই প্রমাণিত হয় না যে, আপনারা খুনি ধরা পড়ুক তা মন থেকে চাননি? আপনাদের মূল লক্ষ্য কি ছিল কেবল অস্থিরতা তৈরি করা?
ওসমান হাদি একজন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন এবং তার হত্যার বিচার হওয়াটা ছিল জাতীয় দাবি। সরকার সেই দাবি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পূরণ করেছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনেছে। কোনো প্রকার উস্কানি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থার এবং সরকারের এক বিশাল বড় সাফল্য যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
এখন সময় এসেছে সেইসব কুচক্রী মহলের মুখোশ খুলে দেওয়ার যারা মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করতে চেয়েছিল। তারা ভেবেছিল মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং দেশের শান্তি নষ্ট করবে। কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন মানুষ এখন অনেক বেশি বোঝে। তারা দেখেছে কারা কাজ করে আর কারা শুধু ফাঁকা আওয়াজ দেয়। ওসমান হাদির রক্ত আজ সঠিক বিচার পেয়েছে প্রশাসনের কারণে।
আসুন আমরা সত্যের পথে থাকি এবং যারা আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তাদের চিনে রাখি। ওসমান হাদির আত্মার শান্তি তখনই পূর্ণ হবে যখন এই ধরনের নোংরা রাজনীতির সমাপ্তি ঘটবে। গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানাই তাদের দৃঢ় অবস্থানের জন্য। সত্য চিরকাল জয়ী হয় এবং এই ঘটনা সেটি আবারও প্রমাণ করে দিল সারা বিশ্বের মানুষের কাছে।
শেষে বলব, ষড়যন্ত্র করে কখনো সত্যকে ঢাকা যায় না। যারা সরকারকে দোষারোপ করেছিল, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ওসমান হাদির খুনিরা শাস্তি পাবেই, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বাংলার মাটিতে বিচারহীনতার কোনো সুযোগ নেই, তা আবারও প্রমাণিত হলো। আমরা চাই দেশ এভাবেই উন্নয়নের পথে এবং ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যাক সকল অপশক্তিকে পদদলিত করে।
