ইরানে জাতিগত বিভাজন সৃষ্টির মাধ্যমে দেশটিকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে একটি মার্কিন বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট "রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফ্ট"। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ার মতো রক্ষণশীল দেশগুলোতে পূর্বে একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছিল, এখন সেই একই নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে ইরানকে কেন্দ্র করে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে ফলাফল ভিন্ন।

ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে, মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক “ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিজ” (FDD) ও কিছু ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপ ইরানের জাতিগত গঠনকে দুর্বলতার জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করে দেশটিতে বিভাজন সৃষ্টির ছক একেছে। এ উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও “ইরানের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ইরান থেকে নির্বাসিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী ঘরানার ব্যক্তিরা।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের গভীর ঐতিহাসিক ও জাতীয় ঐক্যের বাস্তবতা অগ্রাহ্য করছে। নয় কোটিরও বেশি মানুষের এই রাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে বহিরাগত নিষেধাজ্ঞা, চাপ এবং হুমকির মুখে থেকেও অভ্যন্তরীণ সংহতি অটুট রেখেছে। জাতিগত বৈচিত্র্য থাকলেও, ইরানিরা তাদের জাতীয় পরিচয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে।

"জেরুজালেম পোস্ট"-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে পর্যন্ত ইরানকে টুকরো করার আহ্বান জানানো হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি। এসব প্রচেষ্টা ইরাক ও সিরিয়ার মতো একই ভুলের পুনরাবৃত্তি, যা শেষ পর্যন্ত অঞ্চলজুড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছিল।

রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফ্ট তাদের বিশ্লেষণে সতর্ক করে দিয়েছে, ইরানের মতো রাষ্ট্রে জাতিগত বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা কেবল কৌশলগত ব্যর্থতাই নয়, এটি গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে।

news