সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে কিছু অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করলেও নতুন এই সিদ্ধান্তে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার ইঙ্গিত মিলছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, "আমরা আরও অস্ত্র পাঠাচ্ছি, বিশেষত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র। ইউক্রেনীয়রা মারাত্মক আক্রমণের শিকার হচ্ছে—তাদের সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব।"
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনে বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ কিছু অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে। পেন্টাগনের পর্যালোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নতুন ঘোষণায় সহায়তা পুনরায় শুরু হচ্ছে।
পেন্টাগনের নীতি প্রধান এলব্রিজ কলবি জানান, "ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনকে মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছি।"
রাশিয়া এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তবে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত অস্ত্র পাঠানো হবে।
২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সর্ববৃহৎ সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ট্যাংক, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে গত মার্চে ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত আলোচনার পর সহায়তা সাময়িক বন্ধ ছিল।
সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জেলেনস্কির সাথে আলাদা আলোচনা করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতিতে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে পশ্চিমাদের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন সহায়তা আসছে। রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের অনুরোধও বিবেচনায় রয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প পুতিনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমি তার কাজে সন্তুষ্ট নই।" অন্যদিকে, জেলেনস্কি ট্রাম্পের সাথে সর্বশেষ আলোচনাকে "ফলপ্রসূ" বলে আখ্যায়িত করেছেন।
