চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও বিশ্বমঞ্চে বড় বার্তা দিয়েছেন। বাণিজ্য যুদ্ধ আর রাজনৈতিক চাপের মাঝেও তিনি তার দেশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, অংশীদার দেশগুলোকে সহায়তা করতে তিনি শত শত মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির অধীনে বিশ্বজুড়ে শুল্কযুদ্ধ শুরু করে বিদেশি সাহায্য কমিয়ে দিয়েছিলেন।

সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে শি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন আরও গভীর। দুই দিনের এই সম্মেলনের আয়োজনই ছিল সেই বার্তা স্পষ্ট করার জন্য। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে শি জানান, বৃহৎ বাজার ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক শক্তিকে একসাথে কাজে লাগানো উচিত। একইসঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও সুবিধা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

চীনের পক্ষ থেকে এই বছর এসসিও সদস্য দেশগুলোর জন্য ২ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে একটি নতুন উন্নয়ন ব্যাংক গঠনের ঘোষণা দেন শি।

যদিও তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম নেননি, তবে বক্তব্যে "আধিপত্যবাদ," "ঠান্ডা যুদ্ধের মানসিকতা" আর "গুন্ডামি অনুশীলনের" বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানান। উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানসহ বিশ্বরাজনীতির বড় বড় নেতা।

সম্মেলনের পাশাপাশি শি-পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। এক ভোজসভায় দু’জনকে একসাথে প্রাণখুলে হাসতে দেখা গেছে, যা সাধারণত সংযত চীনা নেতার ভিন্ন দিক প্রকাশ করে। এমনকি ফুটেজে দেখা গেছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছেন তারা, যা তাদের উষ্ণ সম্পর্কের প্রতীক।

এই বৈঠকটি পুতিন ও ট্রাম্পের আলাস্কা সম্মেলনের পর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাক্ষাৎ। ঠিক এমন সময়ে সম্মেলনটি হলো, যখন পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমাদের চাপের মুখে পড়েছেন। গত সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের দ্বিতীয় বৃহৎ বিমান হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শি এই সম্মেলন ও আসন্ন সামরিক কুচকাওয়াজকে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যবহার করছেন। যেখানে পুতিন, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনসহ অন্তত ২০টি দেশের নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

চীন চাইছে, যখন ট্রাম্পের নীতি বিশ্ব অর্থনীতি ও সহযোগিতাকে দুর্বল করছে, তখন নিজেদের বিকল্প শক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আনার সঠিক সুযোগ তৈরি হোক। এ কারণেই এবারের এসসিওকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অংশ নিচ্ছে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানসহ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা।

 

news