সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প নিজের পরিবারের পাকিস্তান ব্যবসায়িক চুক্তি রক্ষার জন্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে বিসর্জন দিয়েছেন। সুলিভান বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল কৌশলগত ক্ষতি।
তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসন ভারতের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ভারতের সাথে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও প্রতিভা খাতে সহযোগিতা ছিল অপরিহার্য। কিন্তু ট্রাম্প নাকি সবকিছু ত্যাগ করে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছেন।
সুলিভান অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের সাথে ব্যবসায় চুক্তিতে রাজি হওয়ায়, ট্রাম্প দিল্লির সাথে সম্পর্ক ভেঙে ফেলেন। অথচ ভারতের সাথে সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীনের হুমকি মোকাবিলা করতে অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাঁর মতে, এই ভুলে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার ওপর আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সস্তা তেল কেনার কারণে ভারতকে একের পর এক চাপ দিতে শুরু করে। অথচ চীন ও ইউরোপ একই কাজ করলেও আমেরিকা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলে না।
এদিকে পাকিস্তানের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক উষ্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপরই ওয়াশিংটন পাকিস্তানের সাথে তেলের বড় চুক্তি ঘোষণা করে, আর ভারতের রপ্তানি পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়।
সবশেষে জানা যায়, ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ইনক. পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিলের সাথে একাধিক চুক্তি সই করেছে। সুলিভান বলছেন, এর ফলে শুধু ভারত নয়, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সকল মিত্র এখন ভাবছে—আগামীকাল হয়তো আমরাও ট্রাম্পের কারণে অবিশ্বাসের শিকার হবো।
